অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা, ফসলি জমি রক্ষা এবং মজুদদারি রোধে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ। গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সেশনে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব পতিত জমিকে আবাদের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে চিনিকল, পাটকল, বস্ত্রকল, রেলপথের পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো অনাবাদি জমি আমরা খালি রাখতে চাই না। পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাই অকৃষিকাজে কৃষিজমির ব্যবহার ন্যূনতম পরিমাণ নিশ্চিত করা এবং উর্বর কৃষিজমি যাতে অধিগ্রহণ না করা হয় তা লক্ষ রাখতে হবে। এছাড়া তিন ফসলি জমি কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’
মজুদদারি রোধে মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য অবৈধভাবে মজুদ করে অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রমজানসহ সারা বছর যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে তৎপর থাকতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
এদিকে বিকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরির) প্রতিনিধি দল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউশনের (আপারি) প্রতিনিধি দল পৃথক বৈঠক করেন।
এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হামৌদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ইরির হেলদিয়ার রাইস প্রোগ্রামের প্রজেক্ট লিডার রাসেল রেইনকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে জিএমও গোল্ডেন রাইস জাত অবমুক্তির বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তারা জানান, ফিলিপাইনে গোল্ডেন রাইস চাষ হচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর উপস্থিত ছিলেন।