প্রায় দেড় বছর পর খুলল মামলা জট

‘ফূর্তি’র লোভ দেখিয়ে গহীন অরণ্যে নিয়ে বন্ধুকে খুন

স্থানীয়ভাবে ‘টমটম’ নামে পরিচিত ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় এক যুবককে হত্যা করেছে তারই তিন বন্ধু। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মো. আলমগীর (২১) নামে ওই তরুণকে হত্যার উদ্দেশ্যে নারীর সঙ্গে ‘ফূর্তি’র আয়োজনের কথা বলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায় তার বন্ধুরা। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার পর ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয়ভাবে ‘টমটম’ নামে পরিচিত ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় এক যুবককে হত্যা করেছে তারই তিন বন্ধু। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মো. আলমগীর (২১) নামে ওই তরুণকে হত্যার উদ্দেশ্যে নারীর সঙ্গে ‘ফূর্তি’র আয়োজনের কথা বলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায় তার বন্ধুরা। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার পর ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার কয়েকদিন পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। কিন্তু মরদেহের প্রায় ৯০ শতাংশ পঁচে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত আলমগীর মাধবপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক তিন বন্ধুকে আটক করেছে। তারা হত্যার কথা স্বীকার করে এরই মধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্য থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মরদেহের প্রায় ৯০ শতাংশ পঁচে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ জুলাই পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।  

মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তি এবং ফরেনসিক ল্যাব, ডিএনএ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি মাধবপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে মো. আলমগীর (২১)।

হত্যার দেড় বছর পর খোলে মামলার জট, বের হয় ঘটনার আসল রহস্য। মৃত আলমগীরের ব্যবহৃত মোবাইলের সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর চুনারুঘাট থানার কাছ থেকে মুসলিম মিয়া (২২) নামে এক ঘাতককে আটক করা হয়। সে মাধবপুর উপজেলার উত্তর বেজুড়া গ্রামের মো. ছফন উদ্দিনের ছেলে।

পরে আটককৃত মুসলিম মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারউক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় সে আদালতকে জানায় এ ঘটনার সাথে আরও দুইজন জড়িত থাকার কথা। 

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ ডিসেম্বর বাকি দুই ঘাতক মো. সোহেল মিয়া (৪০) ও মো. রোকন মিয়াকে (৩০) আটক করে। আটককৃত সোহেল মিয়া বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে এবং মো. রোকন মিয়া মাধবপুর উপজেলার খড়কী গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।

তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘাতকরা আদালতকে জানায়- আটক সোহেল মিয়া, মো. রোকন এবং মুসলিম উদ্দিন নিহত আলমগীরের টমটম ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী সোহেল মিয়া নিহত আলমগীরকে ‘নারী’র প্রলোভন দেখায়। আলমগীরকে সে জানায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ‘ফূর্তি’ করার জন্য একটি মেয়েকে রাখা হয়েছে। তার প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ইজিবাইক নিয়ে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর থেকে সাতছড়ি উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মাঝপথ থেকে টমটমে ওঠেন রোকন ও মুসলিম উদ্দিন।

সাতছড়ি উদ্যানের ভেতরে নিয়ে তিনজন মিলে আলমগীরকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে টমটম ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।

আরও