অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার রাতে খুলনার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখা।

গ্রেফতাররা হলেন মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), শেখ সাকির আহম্মেদ এবং মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।

সিআইডি থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বেটিং ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে 'টপ-আপ' বা ডিপোজিট করতে হতো। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।

তদন্তে আরো জানা যায়, এসব অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাবগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ নানা যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তা বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।

সিআইডি আরো জানায়, সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরবর্তীতে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাইবার মনিটরিং সেলে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি চক্রের জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারদের অন্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা শেষে সিআইডির ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার অভিযানকারী দলটি গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের মূলহোতাসহ দেশী-বিদেশী অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরও