উপকূলীয় ডেঞ্জার জোনে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলীয় প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নদীপথে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ডেঞ্জার মৌসুম। অশান্ত মৌসুমের কারণে উপকূলের ওই বিশাল অংশে আগামী সাত মাস ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলীয় প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নদীপথে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ডেঞ্জার মৌসুম। অশান্ত মৌসুমের কারণে উপকূলের ওই বিশাল অংশে আগামী সাত মাস ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সময় সাগরঘেঁষা অঞ্চলে কেবল বে ক্রসিং সনদ (সমুদ্রে চলাচলযোগ্য নৌযান) ছাড়া অন্য কোনো নৌযান চলতে পারবে না। যে কারণে মেঘনাসহ উত্তাল নদীগুলোয় ঝড়ের মৌসুমে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন সি-ট্রাক চলাচলের কথা। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, সি-ট্রাকগুলো অচল হয়ে ডকইয়ার্ডে পড়ে থাকায় সহসাই নামছে না সার্ভিসে। অশান্ত মৌসুমে দুর্ঘটনা এড়াতে তেমন প্রস্তুতিও নেই নৌ-সেক্টরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট রুটে সি-ট্রাক খিজির- অনেক আগে থেকেই ডকইয়ার্ডে উঠে আছে। যে কারণে রুটে আর সি-ট্রাক চলছে না। ইলিশা মজু চৌধুরীর হাটে খিজির- চলাচলের কথা থাকলেও সহসা চলবে কিনা তার সদুত্তর নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। মনপুরা-শষীগঞ্জ রুটে সি-ট্রাক শেখ কামাল চলাচল করতে পারে ১৫ মার্চ থেকে এমনটা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, যাত্রী না হওয়ায় বরিশাল-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট রুটে সি-ট্রাক খিজির- চলাচল আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। আগে বরিশাল থেকে সি-ট্রাক চলত ডেঞ্জার মৌসুমে।

বিআইডব্লিউটিএর দ্বীপ জেলা ভোলার সহকারী পরিচালক (বন্দর পরিবহন) শহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঞ্জার মৌসুমের কারণে ১৫ মার্চ থেকে এমভি শ্রেণীর লঞ্চের টাইম টেবিল দিচ্ছেন না তারা। সময় লঞ্চ কিংবা ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকবে।

অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল থেকে সি-ট্রাক খিজির- বন্ধ করার নেপথ্যে লঞ্চ মালিকরা। সি-ট্রাক বন্ধ করে সেখানে চলাচল করছে কয়েকটি লঞ্চ। অনেকের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিসি এবং লঞ্চমালিকদের গোপন আঁতাত করে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষিত ডেঞ্জার মৌসুমে মেঘনাসহ সমুদ্র এলাকায় শুধু বে ক্রসিং সনদ ছাড়া অন্য কোনো নৌযান চলাচল নিষেধ। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর সমুদ্র অধিদপ্তরের জারি করা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকা ভোলা, পটুয়াখালীতে ঝুঁকি নিয়ে চলে থাকে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌযান। যে কারণে ঝড়সহ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন উপকূলের হাজারো যাত্রী। যদিও এমন ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিস্টদের তেমন প্রস্তুতি নেই।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ডেঞ্জার মৌসুমে বরিশাল নগরীসংলগ্ন ডিসি ঘাট এবং লাহারহাট থেকে কয়েকশ স্পিডবোট অবৈধভাবে চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, স্পিড বোট চলাচলে কোনো বৈধতা নেই। এর পরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ ছুটে স্পিডবোট।

জেলার হিজলা উপজেলার বাউসিয়া থেকে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে নিয়মিত মেহেন্দীগঞ্জের লালখারাবাদ দাতপুর চলাচল করে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। এছাড়া হিজলার হরিণাথপুর থেকে ট্রলারযোগে মেঘনা পাড়ি দিয়ে শরীয়তপুরের ঘোসাইরহাটসংলগ্ন আবুপুরে পৌঁছায় ট্রলার।

একইভাবে উপকূলীয় এলাকা ভোলার মনপুরার সাকুচিয়া জনতা ঘাট থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়ায় ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আকৃতির লঞ্চ চলাচল করে। মনপুরার রিজিরখান থেকে নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত ছোট লঞ্চ চলাচল করে অশান্ত মৌসুমেও।

ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অশান্ত মৌসুমে ১৫ মার্চ থেকে সাত মাস এমভি শ্রেণীর ছোট লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ হচ্ছে। সমুদ্র নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকায় নিয়ম অনুযায়ী বে ক্রসিং সনদযুক্ত সি-ট্রাক চলবে। ডেঞ্জার মৌসুমে উত্তাল মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীতে যেসব ইঞ্জিনচালিত ট্রলার অবৈধভাবে চলছে, সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

আরও