পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও চূড়ান্ত হওয়ার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে রাস্তা প্রশস্তকরণ, ফুটপাত ও সাইকেল লেন নির্মাণের আগে সামগ্রিক পরিকল্পনা ও পরিবেশগত মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে আমরা মাস্টারপ্ল্যানের দাবি জানিয়ে আসছি। উন্নয়নকাজে এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটা ও অসংখ্য জলাধার ভরাট হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের কাজ যখন এগোচ্ছে, তখন কোনো অপরিকল্পিত উন্নয়ন হতে দেয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন বা ফুটপাতের বিরোধী নই। তবে তা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় করতে হবে। কেন্দ্রীয় সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া রাস্তা প্রশস্ত করে উঁচু ফুটপাত নির্মাণ করলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হবে।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণের উদাহরণ নতুন কলাভবন। ক্লাসের সময় এর সামনের রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়। টিএসসির সামনের পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হচ্ছে। ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক উপাদানগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কোনো উন্নয়ন করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ফুটপাত প্রয়োজন হলে তা নির্মাণ করতে হবে। তবে প্রতিটি সড়কের প্রয়োজন ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে কাজ করতে হবে।
বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, আমরা ফুটপাতের বিরোধী নই। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা কেন হচ্ছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। পরে এসব কাজ মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এর দায় কে নেবে? মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে কোনো নির্মাণকাজ হতে দেয়া হবে না।
মানববন্ধন থেকে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের অবকাঠামো, আবাসন ও পরিবেশগত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং তা চূড়ান্ত হওয়ার আগে খণ্ডিত উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ উদ্বোধনের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত হওয়ার আগে রাস্তার কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার পর বুধবার দুপুরে উদ্বোধন কর্মসূচি স্থগিত করে প্রশাসন।