বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার ভোরে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী (৬০), আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ (৫৪) এবং রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে তাদের সহযোগী আরাফাত ওরফে শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকালে ঢাকা সেনানিবাসে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। তিনি এ গ্রেফতারকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন এটি সেনাবাহিনীর অপারেশন দক্ষতা, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
তিনি বলেন, সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী, আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, শুটার আরাফাত ও শরীফকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এর মধ্যে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ দেশের ‘২৩ জন মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নেতা এবং ‘সেভেন স্টার’ অপরাধ সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হয়।
এ অভিযানে ৪৬ ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডসহ বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অভিযানের সময় ৫টি বিদেশী পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি।
তিনি বলেন, এই ব্যক্তিরা সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল। দীর্ঘদিন নজরদারির পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ও কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ অভিযানটি সেনা সদর দফতরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেট, ৫৫ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, ১৪ ইনডিপেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (NSI) সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
জনগণের সহায়তা কামনা করে তিনি বলেন, যদি কেউ কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখতে পান বা সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত তথ্য থাকে, তাহলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করছি।