গতকাল রোববার দিবাগত রাত ও দিনভর এলাকাবাসী সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় যেন নিরব অবস্থা চলছে ক্যাম্পাস জুড়ে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়নি।
চবির ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে সেটা গতকালই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়েছিল। ক্যাম্পাস জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ চলছে। শাটল ট্রেনও চলাচল করছে। আজকের অবস্থা পর্যালোচনা করে আগামী কয়েকদিনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই ফাঁকা বলে জানান তিনি।
এদিকে কয়েকশ শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনায় কোনো মামলা এখনো দায়ের করা হয়নি। হাটহাজারি থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন থানার কর্মকর্তারা।
সার্বিক প্রসঙ্গে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় মামলা অবশ্যই হবে। এত শিক্ষার্থী আহত হলো তাদের উপর যারা হামলা করলো তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্লাস ও পরীক্ষা যাতে আবারো শুরু করা যায় সেই বিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়া আহত শিক্ষার্থীদের সকল চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি আছে। ঢাকাতেও নেয়া হয়েছে। আমরা সব জায়গায় খোঁজ রাখছি। এছাড়া হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হয় সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রোববার দিবাগত রাতে ছাত্রীকে দারোয়ান কতৃক হেনস্তার ঘটনায় চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে শতাধিক শিক্ষার্থী। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ না থাকায় এসময়ে বেশি শিক্ষার্থী আহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা দাবি করে ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টরসহ অন্যান্য দায়িত্বরতদের পদত্যাগ দাবি করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।