ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে নতুন চাঁদাবাজ গোষ্ঠী

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এনায়েতনগরে গার্মেন্টসের ঝুট (ওয়েস্টেজ) নামানোকে কেন্দ্র করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয় এক শিশু। ওই ঘটনায় আহত হন আরো বেশ কয়েকজন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ৫০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

গার্মেন্টস খাতসংশ্লিষ্ট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, তৈরি পোশাক শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ঝুট অর্থনীতি এখন কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; বরং এ খাতের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় ক্ষমতা ভারসাম্যের এক জটিল অনানুষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। ফলে ঝুটকে ঘিরে সংঘাত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে নিয়মিতভাবে সামনে আসছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ঝুট বা ছাঁট কাপড় উৎপন্ন হয়। ঝুট মূলত তৈরি পেশাক কারখানায় উৎপাদিত কাপড়ের কাটা টুকরো, অবশিষ্ট সুতা ও ত্রুটিযুক্ত বাতিল পোশাক। এসব পুনর্ব্যবহার করে নতুন পোশাক তৈরি হয়। ঝুট কখনো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় কারখানার বয়লারে। বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের অনুমান অনুযায়ী, এর পরিমাণ বছরে প্রায় চার থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টন। ঝুটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বগুড়া, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।

ঝুট অর্থনীতিকে ঘিরে বড় ধরনের রফতানি সম্ভাবনাও রয়েছে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড ও বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের সহায়তায় পরিচালিত “‘টুয়ার্ডস আ সার্কুলার ইকোনমি ইন বাংলাদেশ’স অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের পুনর্ব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুট সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রাতিষ্ঠানিকতা, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতা ও সীমিত পুনর্ব্যবহার সক্ষমতার কারণে বর্তমানে এ সম্ভাবনার বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ঝুট থেকে টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, সোয়েটার, শাল, কম্বল, মোজা, মাফলার, দড়ি ও গৃহস্থালি পণ্য তৈরি হয়। পাবনায় ঝুটভিত্তিক টি-শার্ট শিল্প গড়ে উঠেছে। গাইবান্ধায় সোয়েটার, মোজা ও দড়ি উৎপাদন হয়। বগুড়ায় পুনর্ব্যবহৃত সুতা থেকে কম্বল ও শীতবস্ত্র তৈরি হচ্ছে। পাবনার উৎপাদিত কিছু পণ্য ভারত, নেপাল, ভুটান ও সীমিত আকারে মালয়েশিয়ার বাজারেও যায় বলে জানা গেছে।

দেশে ঝুটের বাজার প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারখানা মালিক নিজের ইচ্ছানুযায়ী ঝুট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। স্থানীয় সংগ্রহকারী গোষ্ঠী, মধ্যস্বত্বভোগী নেটওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে মাঠপর্যায়ে ঝুট সংগ্রহ, পরিবহন ও গুদামজাত যেসব গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাদের একটি বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে।

গাজীপুরকে বাংলাদেশের ঝুট বাণিজ্যের কেন্দ্রীয় বিতরণ হাব বিবেচনা করা হয়। এ জেলায় ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কালিয়াকৈরে হোপলুন ইন্টিমেট লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝুট সংগ্রহ ও সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়।

ঝুট সংগ্রহ এবং এ খাতে চাঁদাবাজি সবসময়ই স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ ও সাভার ইপিজেড এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সশস্ত্র মহড়া ও পেশিশক্তির মাধ্যমে স্থানীয় অনেক রাজনৈতিক নেতা এসব এলাকায় ঝুটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সে সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিটের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পর ঝুটের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলার ক্লাস্টারগুলোতে নতুন করে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন চাঁদাবাজ গোষ্ঠী গড়ে ওঠার কথা জানান দিচ্ছে এসব রক্তক্ষয়ী সংঘাত।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ফতুল্লার ঘটনাই নয়; রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঝুটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিল্প পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঝুট ব্যবসার মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এখনো মূলত স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত। তাদের প্রভাবের কারণে সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

জানতে চাইলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বরাবরের মতো ঝুট ব্যবসা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপগুলোর মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি হয়, যা শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশকে ব্যাহত করে।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্কেল ইকোনমি ও লেবার অ্যাট ইনফরমাল ইকোনমির (এলআইই) সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঝুট সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রথম ধাপেই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ‘পাওয়ার ব্রোকার’দের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়। তারা কারখানা থেকে ঝুট সংগ্রহের প্রবেশাধিকার, প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ ও বাজারে কারা ব্যবসা করতে পারবে—সেসব বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে। এরপর মধ্যস্বত্বভোগী, গুদাম মালিক ও ব্যবসায়ীদের একাধিক স্তর পেরিয়ে ঝুট চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক কাঠামো বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে সীমিত করে এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

এলআইইর পলিসি ব্রিফে বলা হয়েছে, ঝুটের কাঁচামালের দাম নির্ধারণেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। দামের ওপর এ নিয়ন্ত্রণ বাজারে অস্বচ্ছতা তৈরি করে এবং বিরোধের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে।

ঝুট খাতে বিরোধ-সংঘাত বন্ধ করতে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেখানে ঝুট শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন, জেলাভিত্তিক ডেটাবেজ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, স্বচ্ছ ট্রেসেবিলিটি কাঠামো এবং সরকার, মালিক পক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক বিরোধ কমাতে সহায়ক হবে।

ঝুট খাতে সমাপ্ত পণ্যের জন্য কোনো সংগঠিত বা কাঠামোবদ্ধ বাজার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ধারাবাহিক ক্রেতা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন এবং উৎপাদন পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এ বহুস্তরীয় কাঠামোর কারণে ঝুটের দামের ওপরও প্রভাব পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, কারখানা পর্যায়ে যে দামে ঝুট বিক্রি হয়, শেষ বাজারে তার মূল্য কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। মধ্যবর্তী স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের কারণে প্রকৃত উৎপাদক বা কারখানা মালিকরা অনেক সময় বাজারমূল্যের তুলনায় কম দাম পান।

আশির দশকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা ও তৈরি পোশাক শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের পর রাজধানীর মিরপুর, কালশী, মাটিকাটা, উত্তরা ও আশপাশে অসংখ্য পোশাক কারখানা গড়ে ওঠে। এসব কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ ঝুট উৎপন্ন হতে থাকে।

এ সময়ের পর থেকেই ঝুটকে ঘিরে একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামো বিকশিত হয়, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রয় ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর পরিবর্তন ঘটলেও মৌলিক অনানুষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে।

একপর্যায়ে মিরপুর অঞ্চল ঝুট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে এ অর্থনীতি ও সংঘাত ধীরে ধীরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলে বিস্তৃত হয়।

ঝুট খাতকে স্বচ্ছ ও সংঘাতমুক্ত করতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রস্তাব বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে বলে শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্প সংগঠন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। এর আওতায় ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্রভিত্তিক ঝুট কেনাবেচার ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে যারা ঝুট সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বড় অংশ আগের মতোই আছে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন “‍‍ভাই” বা প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। আগে যেমন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হতো, এখনো অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো অনেক কারখানা মালিক নিজের কারখানার ঝুট কার কাছে বিক্রি করবেন, সেই স্বাধীনতাটুকুও বাস্তবে পান না। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রকৃত বাজারমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।’

গার্মেন্টস খাতসংশ্লিষ্টরা বলেন, ঝুটকে বর্জ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ। সরকার চাইলে কেন্দ্রীয়ভাবে সংগ্রহ, ডিজিটাল নিলাম বা স্বচ্ছ ট্রেডিং প্লাটফর্ম চালু করতে পারে। এতে কারখানা মালিকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতা কমবে এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতও কমবে।

বাংলাদেশের ঝুট অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর ভবিষ্যৎ শিল্প স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব ব্যবসায় কম টাকা বিনিয়োগ করে অধিক লাভের সুযোগ থাকে সেখানেই একধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে হত্যা, মারামারি, হুমকির মতো অপরাধ ঘটে। ঝুট ব্যবসায় কম টাকা বিনিয়োগ করে অনেক বেশি লাভ করা যায়। আমরা চাই ব্যবসা থাকুক, প্রতিযোগিতাও থাকুক। কিন্তু অপরাধটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনীতিকদের সমন্বয়ে। নোডাল গভর্ন্যান্স তৈরির মাধ্যমে রাজনৈতিক অপরাধ দূর করতে হবে। প্রয়োজনে ঝুট ব্যবসার জন্য স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করে তা প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করতে হবে।’

আরও