কুড়িগ্রামে অজ্ঞাত রোগে পুড়ছে আমন ধান, ক্ষতির মুখে কৃষক

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পূর্ব বালাকান্দি গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তাদের পরামর্শে কয়েকবার ওষুধ ছিটিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তার জমির অর্ধেক ধান গাছেই কোনো ফলন হবে না। ফলে আমন আবাদে তাকে চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে অজ্ঞাত রোগে একের পর এক ধানখেত পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নানা ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর ও সদরসহ প্রায় সব উপজেলায় একরের পর একর ধানখেতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। থোড় বা ফলন আসার আগেই কোনো ক্ষেতের ধানগাছের পুরো পাতা শুকিয়ে আগুনে পোড়ার মতো রূপ নিচ্ছে। আবার কোনো ক্ষেতে আংশিকভাবে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় আক্রান্ত ক্ষেতের কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে তিন থেকে চার বার ওষুধ স্প্রে করেও ফসল রক্ষা করতে পারছেন না।

কৃষকরা জানান, গত বছর আমন আবাদে এ রোগ সামান্য পরিমাণে দেখা গেলেও এবার তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ফলে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পূর্ব বালাকান্দি গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তাদের পরামর্শে কয়েকবার ওষুধ ছিটিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তার জমির অর্ধেক ধান গাছেই কোনো ফলন হবে না। ফলে আমন আবাদে তাকে চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে।

একই এলাকার রিপন, বেলালসহ শত শত কৃষকের একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। কারো জমির পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে, আবার কারো আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ধানখেত পুড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করে পোকার আক্রমণের কথা বলে দায় সারছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, মিলিবাগ রোগে আক্রান্ত ধানখেতে পোকা দমনে ওষুধ প্রয়োগের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ জমিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, সে তথ্য জানাতে পারেনি জেলা কৃষি বিভাগ।

আরও