চসিকের লেকসিটি আবাসন প্রকল্প

অর্থ পরিশোধের এক যুগেও প্লট বুঝে পাননি ১১৮ গ্রাহক!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আবাসন প্রকল্পের প্লট কিনে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। অর্থ পরিশোধের এক যুগের বেশি সময় পার হলেও এখনো প্লট বুঝে পাননি লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের ১১৮ গ্রাহক। প্লটের আশায় প্রতিদিন কর্মকর্তাদের রুমে রুমে ধরনা দিলেও প্লট পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলছেন না করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আবাসন প্রকল্পের প্লট কিনে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। অর্থ পরিশোধের এক যুগের বেশি সময় পার হলেও এখনো প্লট বুঝে পাননি লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের ১১৮ গ্রাহক। প্লটের আশায় প্রতিদিন কর্মকর্তাদের রুমে রুমে ধরনা দিলেও প্লট পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলছেন না করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে নগরের বিশ্বকলোনি এলাকায় ৩১ একর জমি নিয়ে লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন চসিকের তত্কালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পরে ২০০৬ সালে প্রকল্পটিতে ৫৪৮টি প্লট বরাদ্দ দেয় করপোরেশন। প্রতিটি আড়াই কাটার প্লটে প্রথম দফায় কাঠাপ্রতি ৬ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ৮ লাখ টাকা হিসেবে অর্থ পরিশোধ করেন প্লট বরাদ্দ পাওয়া ক্রেতারা। করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় এসব প্লট বিক্রি করেন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আইনি জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। অবশ্য মনজুর আলমের শেষদিকে ২০১৪ সালে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়।

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা এখলাস উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় উদ্যোগ নেয়া লেকসিটিসহ চারটি আবাসন প্রকল্পের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে আইনি জটিলতা ছিল। ফলে দীর্ঘদিনেও গ্রাহকদের প্লট বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। জটিলতাগুলো সমাধান হওয়ার পর গত কয়েক বছরে লেকসিটিতে ৪৩০ গ্রাহককে প্লট বুঝিয়ে দেয়া হয়। জমি সংকুলান না হওয়ায় বাকি আরো ১১৮ জনকে প্লট দেয়া যায়নি। ওই প্রকল্পের পাশে জমি কিনে বাকিদের প্লট বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করছি।

লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের প্লট ক্রেতা ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এক যুগেরও বেশি সময় আগে গ্রামের বাড়ির জায়গা বিক্রি করে ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকায় একটি প্লট কিনেছিলাম। এখনো প্লট বুঝে পাইনি, কবে পাব তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্লট না কিনে টাকা ব্যাংকে রাখলে এত দিনে সুদাসলে ৩০ লাখ টাকা পেতাম। তা তো হয়নি, এখন প্রতি মাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে।’

লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের আরেক গ্রাহক ডা. এনামুর রশিদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বরাদ্দের পর কয়েকজন প্লট মালিক এরই মধ্যে মারাও গেছেন।

আরও