ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস (২৫) নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেয়ার ঘটনায় ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র্যাব। গতকাল দুপুরে র্যাব ময়মনসিংহ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ সদর দপ্তরের অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাতসহ কিলঘুসির মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহে আগুন দেয়া হয়েছে। দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারও সঙ্গে কথার সময় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে কি না সেটি সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানাতে পারছে না। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধ করা হয়েছে।
দীপু চন্দ্র পাইওনিয়ার নিটওয়্যারের লিংকিং সেকশনে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কাজ করার সময় সহকর্মীর সামনে ধর্মীয় বিষয়ে কটূক্তি করেন তিনি। বিষয়টি মিলগেটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ কারখানার সামনে জড়ো হয়। তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে দীপুকে টেনে বের করে আনে এবং গণপিটুনি দেয়। এ সময় শিল্প পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দীপু মারা যান। পরে জনতা মরদেহ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। রাত সোয়া ১১টার দিকে মরদেহ ঝুলিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী ফিরোজ মিয়া জানান, দিপুর একটি বক্তব্য ঘিরে কারখানার ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ভাংচুর শুরু করলে কর্তৃপক্ষ দিপুকে জনতার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়।
তবে নিহতের বড় বোন চম্পা দাস এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই শিক্ষিত মানুষ। ধর্ম নিয়ে তার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সে এমন কাজ করতেই পারে না। আবার তার কাছে স্মার্টফোন নেই। আমি শুনেছি উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এ কারণে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কোম্পানির লোকজন কেন ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিল না? তারা কেন তাকে জনতার হাতে তুলে দিল?’