গতকাল সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকায় নির্যাতনে নিহত চার বছরের এক শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘গত মাসে ৮-১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। এ মাসে আবারো প্রায় ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এটি আসলেই জনগণের ওপর একটা জুলুম। তা যদি করতেই হয়, তাহলে সংসদে আলোচনা করে করা যেত। কিন্তু জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময় রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে; যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে অন্য সবকিছুর দাম বাড়বে; যা জনস্বার্থবিরোধী বলেও মনে করেন বিরোধীদলীয় এ নেতা।
শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এ বিচার হবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ শিশুর বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
এ সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঘটনার ২৮ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নিহত শিশুর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকবে। আমরা চাই না আর কোনো বাবা-মাকে বলতে হোক—আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না, আমি শুধু বিচার চাই।’
দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা কমে যায় এবং দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের উৎসাহিত করে।’
বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা জনগণের পার্লামেন্ট। আগামী ৭ জুন থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম, অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হবে।’
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশ এখন মানুষের প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে ওই স্রোত যত ভয়াবহ হোক, আমরা সেই স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে যাব।’