আমিষের ঘাটতি পূরণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে দুই দশক আগে বাগেরহাটে নির্মাণ করা হয় মুরগি খামার। বিভিন্ন কারণে খামারটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালে সেখানে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার গড়ে তোলা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ২০১৭ সালে। প্রতি বছর খামার থেকে ডিম ও অর্ধলাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন হয় এখান থেকে। তবে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে খামারের শেডগুলোয় মরিচা ধরেছে। বাচ্চা ফোটানো ইনকিউবেটর মেশিন ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে নেটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বাচ্চা উৎপাদন ব্যাহত হচ্চে। দ্রুত খামারে মিঠা পানির ব্যবস্থা করা না হলে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার সূত্রে জানা গেছে, খামারে স্থাপন করা হয় গভীর নলকূপ। তবে সে পানিতে রয়েছে আয়রন ও লবণাক্ততা। বিকল্প ব্যবস্থায় না থাকায় ওই পানি ব্যবহার করে আসছিলেন খামারসংশ্লিষ্টরা। লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে খামারের শেডগুলোয় মরিচা ধরেছে। বাচ্চা ফোটানো ইনকিউবেটর মেশিন ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। নেটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘খামারে যেসব বাচ্চা উৎপাদন হয়, সেগুলো খুলনা বিভাগসহ বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, চিতলমারীসহ স্থানীয় খামারির কাছে সরকারি দামে বিক্রি করা হয়। এতে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। পাশাপাশি হাঁস বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন খামারিরা।’
খামারটির পোলট্রি টেকনিশিয়ান উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘হাঁস প্রজনন খামারে একদিন বয়সের বাচ্চা বিক্রি হয় ২৫ টাকা। একই বাচ্চা বাজারে বিক্রি হয় ৪০-৫০ টাকা। খামারে উৎপাদিত হাঁস অন্য হাঁসের তুলনায় আলাদা। দৈহিক গঠন অন্য হাঁসের চেয়ে বেশ বড় হয়। বছরের ১০ মাস ডিম দেয়। চীন থেকে আনা ইনকিউবেটরের মাধ্যমে এখানে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়। তবে লবণাক্ততার কারণে মেশিনটি নষ্ট হচ্ছে।’
খামারে উৎপাদিত হাঁসের জাতের মধ্যে রয়েছে চায়না বেইজিং ও জিংডিং হাঁস। এছাড়া হাঁস পালনে খামারে রয়েছে ছয়টি লেয়ার শেড, একটি হ্যাচারি, একটি গুদাম, ডরমেটরি ভবন, জেনারেটর ভবন, অফিস কাম টেনিং সেন্টার, গাডরুম ও সেলস সেন্টার এবং একটি ব্রন্ডার শেড।
বাগেরহাট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের খামারি শেখ নিপু বলেন, ‘খামার থেকে হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে এক-দুই মাস লালন-পালন করি। পরে প্রতি জোড়া ৩৫০-৪০০ টাকা বিক্রি করি। এতে আমার লাভও ভালো হয়।’
একই গ্রামের ইউসুফ নামে আরেক খামারি বলেন, ‘আগের মতো চাহিদা অনুযায়ী বাচ্চা এবং ডিম পাওয়া যায় না। শুনেছি লবণ পানির কারণে মেশিনগুলো নষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
এ ব্যাপারে খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএফএম ফয়জুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খামারে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ছিল বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার। তবে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯০টি এবং বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৬৮৯টি। আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি সফলতার সঙ্গে চলছিল। তবে এখন উৎপাদন কিছুটা কমে গেছে। খামারে স্থাপিত গভীর নলকূপে লবণাক্ত পানি ও আয়রনের কারণে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর ইনকিউবেটরের বিভিন্ন যন্ত্রে মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বাচ্চা উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে।’
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, ‘সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।’