লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে নতুন ঘরে ওঠার স্বপ্ন ছিল ৯ বছরের সাইয়্যেদার। ঈদে বাবা-মায়ের সঙ্গে সেই ঘরে উঠে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব। তিনি কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন।
গত শনিবার রাতে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুর থেকে একটি বাসে করে লক্ষ্মীপুরে আসছিলেন। রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে শিশু সাইয়্যেদাসহ কয়েকজন নিহত হন।
এ দুর্ঘটনায় সিরাজ উদদৌলা, তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও বড় মেয়ে আফনান গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, আফনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। রাজিয়ার শরীরের হাড় ভেঙে গেছে এবং তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সিরাজও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে সিরাজের একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এবার ছোট মেয়েকেও হারাতে হলো। সাইয়্যেদা একাই পুরো বাড়ি সরগরম রাখত। এখন সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।
সাইয়্যেদার ফুফা আব্দুর রব ও চাচী শাহিনুর সুলতানা জানান, পরিবারের সবাই শোকে ভেঙে পড়েছে। সিরাজের শ্যালক আবি আবদুল্লাহ বলেন, পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ।