বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হবে। মানুষ ভরসা করে যার দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, পরিকল্পনা আছে, যারা মানুষকে ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায়নি। আজ শনিবার সিরাজগঞ্জের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, যে মানুষগুলো গত ১৬/১৭ বছর যাবত প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এ অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। যে স্বৈরাচার আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে- সে যে ধর্মেরই হোক, বাংলাদেশের নাগরিক। কে কোন ধর্মের- সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে সেই বাংলাদেশের মানুষ।
তিনি বলেন, আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে চাই। সে কারণেই আমরা যদি দেশে জনগণ শাসন কায়েম করতে পারি, দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, কল্যাণকর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই দেশ এবং জনগণের প্রকৃত যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থী যথাক্রমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এম আকবর আলী, এম এ মুহিত, আইনুল হক, সেলিম রেজা, হাবিবুর রহমান হাবিব, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাসান জাফির তুহিন, সেলিম রেজা হাবিব ও ভিপি সামসুল ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ধানের শীষের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে বহু কাজ করার আছে। অনেক কাজ করার আছে, সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যে কাজগুলো করলে এলাকার উন্নয়ন হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি ,আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সবাইকে আমাদের একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে।
সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এ অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে, তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে এ শিল্পের পণ্যসামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি, এই অঞ্চলে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে দেশে নারী ও কৃষকদের সহযোগিতার কথা বলেন তিনি।
কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। দেশের মানুষ দেখতে চায় কোন রাজনৈতিক দল কি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে যেন দেশ ও জনগণ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা আপনাদের সামনে আমাদের পরিকল্পনা দিয়েছি।
তিনি বলেন, একাত্তরে লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। চব্বিশের জুলাইয়ে মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন আমাদের সামনে শপথ একটাই, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত করা ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেরকম একটি বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন দেশের মানুষ আমাদের সমর্থন দেবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কেউ যেন আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। কেউ যেন আমাদের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে। অনেকে আপনাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের সবার প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিৎ, 'আমরা করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।