ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুধু অভিযুক্ত ফয়সাল নয়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত হাদির পরিবার।
হাদি হত্যা মামলার আসামি ভারতে গ্রেফতারকৃত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাদির পরিবারের সদস্যরা। একইসঙ্গে, তারা আসামিদের গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
আজ সোমবার দুপুর ১টায় নলছিটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা সুলতানা হাদি এসব দাবি জানান।
এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে হাদিকে গুলি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক দেশ ত্যাগ করে। আজ ওসমান হাদি হত্যার ৮৭ দিন পার হলেও সরকারের তদন্তকারী সংস্থা আদালতে গ্রহণযোগ্য অভিযোগপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিগত সরকারের কাছে বারবার জাতিসংঘের মাধ্যমে হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি।
তিনি আরো বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচারের জন্য সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করি। এসময় তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিমিয় চুক্তি অনুসারে হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখির দাবি জানান। একইসঙ্গে এই হত্যার পিছনের মূল মাস্টারমাইন্ড, অর্থ যোগানদাতা, ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীসহ সকল ষড়যন্ত্রকারীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিও করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমা হাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার বিচারকার্যে যদি কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করা হয় তবে বাংলাদেশপন্থী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন, ভলানটিয়ার অব নলছিটির আহ্বায়ক মো. শাহাদাৎ আলম, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি তৌহিদ আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর কবির রানা প্রমুখ।
গত শনিবার ভোররাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও থেকে আটক করেছে এসডিএফ। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।