রংপুর
সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার বস্তি থেকে শুরু করে শিক্ষিত পরিবারের প্রায় ৩৮ দশমিক ৬
ভাগ শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বস্তিতে বসবাসকারী ৬৭ ভাগ শিশু
মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। বস্তির শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য দারিদ্র্য মূল কারণ হলেও শুধু অসচেতনতার জন্য শিক্ষিত পরিবারে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি।
চলতি বছরের জুলাই থেকে আগস্ট—দুই মাস সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি বস্তিতে বসবাসকারীসহ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা (ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী) ৪ হাজার ৪০৬টি শিশুকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অনূর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টিহীনতা যাচাই প্রকল্পের অধীন এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৩৮ দশমিক ৬০ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার, ২৮ দশমিক ৩৬ ভাগ শিশুর ওজন বেশি এবং ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ ভাগ শিশু স্বাভাবিক শিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়। ছেলে শিশুর তুলনায় মেয়ে শিশুরা বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। এ থেকে বোঝা যায়, নগরীতে এখনো শিশুরা জেন্ডার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
কার্যক্রম চলাকালীন ৭২টি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিশুর সুস্থতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে সিটি করপোরেশন। এছাড়া ৩০০ অভিভাবকের ওপর শিশুর পুষ্টিকর খাবার প্রদানের বিষয়টি নিয়ে জরিপ করা হলে, তারা বেশির ভাগই এসব বিষয়ে জানেন না বলে তথ্যে উঠে এসেছে।
সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নূপুর বেগম জানান, শিশুর যত্ন এবং খাবার বলতে নিজে যা বুঝতেন তাই সন্তানকে নিয়মিত খাওয়াতেন। কিন্তু জরিপ না হলে তিনি বুঝতেন না তার সন্তানের ওজন কম এবং পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। শিশুকে প্রতিদিন সুষম খাবার দিতে হয় তা তিনি আগে জানতেন না।
রংপুর সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. পলাশ কুমার রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জরিপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পুষ্টিহীনতার বিষয়টিকে। যেসব শিশু বয়সের তুলনায় ওজন কম, আবার বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম, সাধারণত ওইসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে বলে আমরা চিহ্নিত করি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেমন শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে, আবার শিক্ষিত পরিবারে অসচেতনতার জন্যও সুষম খাবারের অভাবে শিশুরা পুষ্টিহীনতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির শিকার হচ্ছে।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ বলেন, ‘জরিপে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বৃদ্ধিসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর্মীর নজরদারি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে উপস্থাপন করব। যাতে এ ফলকে সামনে রেখে নগরবাসীর, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যসম্পর্কিত কার্যকর বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ যায়। জরিপের সময় শিশুর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ অভিভাবক সচেতন ছিলেন। কিন্তু জরিপের পর বর্তমানে এ হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া জরিপে চিহ্নিত পুষ্টিহীন শিশুর পরিবারের কাছে ১৬ হাজার (পুষ্টিকণা) প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।’