বাজেট প্রতিক্রিয়া

‘গুড ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে

ড. মোস্তাফিজুর রহমান
সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি

বাজেটের কাঠামোগতভাবে যে ফ্রেম দেয়া হয়েছে, সেটা ভালোই মনে হচ্ছে। যেসব খাতে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা, সেগুলোতেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা।

আবার বিনিয়োগ চাঙ্গা করার জন্য কিছু আমদানি-প্রতিস্থাপক শিল্পে শুল্ক কাঠামোরও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ হলো বাজেট বাস্তবায়ন। যেসব খাতে বরাদ্দ বেশি দেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। যে বরাদ্দগুলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলোর ‘গুড ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্ব নীতির সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে রাজস্ব আহরণের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হলে অনেক বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এদিকে এআইটি, ভ্যাট ও ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেয়ার পাশাপাশি আমদানি-প্রতিস্থাপক ও রফতানিমুখী শিল্পকে সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগ চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ আরো বাড়বে।

সরকার যে চারটি কৌশলের কথা বলেছে—কর অব্যাহতি কমিয়ে আনা, কর ফাঁকি বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ, করভিত্তি সম্প্রসারণ, এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন এবং প্রযুক্তির আরো কার্যকর ব্যবহার—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কর প্রশাসনের এ সংস্কারগুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে সরকার ঋণ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে একটি দুষ্টচক্র সৃষ্টি হতে পারে। সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রাপ্তির সমস্যা হবে, যার ফলে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই এ দুষ্টচক্র এড়াতে রাজস্ব আহরণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আমার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রথমত, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো; দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে আরো উদ্ভাবনী ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা, যাতে এ বড় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়।

আরও