তার খামারে মোট ১৬টি গরু। এর মধ্যে ১০টি গাভী ও ছয়টি মাংসের। কিন্তু মাস খানেক আগে তার গরুর খামারে লাম্পি স্কিন ডিজিজে (এলএসডি) আক্রান্ত হয় একটি বাছুর। আক্রান্তের সময় অত্যধিক জ্বর থাকায় খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয় গরুটি। পরে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরামর্শে চিকিৎসা করে বাছুরটি রক্ষা পায়। কিন্তু রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় তার খামারের আরো দুটি বাছুর গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়।
এটি শুধু চলনবিলের খামারি আবু তালেবের খামারের চিত্র নয়। পুরো নাটোর জেলায় এখন খামারিদের কাছে আতঙ্কের এক নাম এলএসডি। এ রোগের ভ্যাকসিন-স্বল্পতা এবং সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় মারাও যাচ্ছে বাছুর। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন খামারিরা।
খামারিরা জানান, রোগের কারণে গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে এবং চিকিৎসার খরচও বেড়েছে। এতে খামার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই আতঙ্কে আছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরো বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
খামারি আব্দুর রহমান বলেন, ‘ছয়-সাত মাস বয়সী বাছুর এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এ সময় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেয়ায় দুর্বল হয়ে অনেক বাছুর মারা যাচ্ছে। একটা বাছুর একটু বড় হলে ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। মারা গেলে আমাদের পুরোটাই ক্ষতি।’
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চলনবিল অঞ্চলে সব মিলিয়ে ১০-১৫ শতাংশ গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা খামারিদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ থেকে বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই বাজেট দিয়ে আমরা ভ্যাকসিন কেনার কথা ভাবছি। এতে ৮০০ থেকে এক হাজার গরুকে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারব।’
এদিকে, এলএসডির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার নাটোরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলোতে। সম্প্রতি কোরবানির ঈদের চামড়ার মধ্যেও ব্যাপকভাবে এলএসডিতে আক্রান্ত গরুর চামড়া এসেছে। এতে কম দামে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
চামড়া ব্যবসায়ী কামর উদ্দিন কমল বলেন, ‘বর্তমানে নাটোর চামড়ার মোকামে যে চামড়ার দাম ১ হাজার ২০০ টাকা হওয়ার কথা, সে চামড়া ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়ত মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’
নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘এলএসডির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে চামড়া শিল্পে। ২০২২ সাল থেকে সামান্য পরিমাণ দেখা গেলেও চার বছর ধরে অধিক পরিমাণে আক্রান্ত গরুর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। রোগটি নির্মূল করা সম্ভব না হলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে খাতটি।’