দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। আলোচিত এই নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের প্রাচীনতম এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তফসিল অনুযায়ী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন হওয়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে এখনো প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপির ছাত্র সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল।
এর আগে সোমবার (১৮ জুলাই) দলীয় নির্দেশনায় একাধিক পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সাংগঠনিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল না দেয়ায় ব্যক্তিগতভাবে নেতাকর্মীরা প্রায় সবাই দুটি করে (হল এবং কেন্দ্রীয়) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
সেদিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন শুধু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছি। তবে কারা কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল গঠিত হবে।’
ছাত্রদল যথাসময়ে প্যানেল ঘোষণা করতে না পারায় ভোটার ও অন্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবিদুল ইসলাম খান মুঠোফোনে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে রাতের মধ্যে প্যানেল চূড়ান্ত হবে। আগামীকাল (আজ) সকালে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হবে।’
গত ২৮ জুলাই ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন ছিল ১৮ আগস্ট ও ১৯ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোটসহ ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শিবিরসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন এরই মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলও ঘোষণা করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কিংবা আংশিক প্যানেল ঘোষণা দিতে পারেনি ছাত্রদল। এই অবস্থায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের সময় একদিন করে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৯ ও ২০ আগস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ছাত্রদলকে বাড়তি সুবিধা দিতে সময় বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবির, বাগছাসসহ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহে দিন বাড়ানোকে প্রশাসনের একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের প্রতি পক্ষপাতী আচরণ বলে অভিযোগ করেছেন ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলে গতকাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি এবং আজকে তা জমা দিয়েছি। কিন্তু গতকাল থেকে কয়েকটি বিষয় দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হঠাৎ করে একদিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় বাড়াল। এটি স্পষ্টতই একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি তাদের পক্ষপাতী আচরণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল যে তারা যেই তারিখ ঘোষণা করবেন, সেই তারিখ মেইনটেইন করে শিক্ষার্থীদের রায়কে প্রতিফলিত করবেন। কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা ছাড়াই সরাসরি সময় বাড়িয়ে দেয়া— যখন বাকিরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে— তা নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সামগ্রিক সুবিধা দেয়া। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য ভিড় করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো কোনো হল ও কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। এই অবস্থায় গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ সবার জন্য সমান ও সমুন্নত রাখার তাগিদে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণের সময় একদিন করে বাড়ানো হয়েছে।