ঢাবির ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

ডাকসুর জিএস রাশেদ খান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগ ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সঙ্গে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল ও একজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে মো. রাশেদ খানকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সিন্ডিকেট।

ড. জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মো. রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিলের পর তাকে এ পদে ঘোষণা করা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাকসুর জিএস পদে রাশেদ খানকে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে রাত ১১টায় হলের গেট বন্ধ হবে। এতদিন রাত ১০টায় গেট বন্ধ করা হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে ছাত্রীদের হলে ফেরার জন্য অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা সময় পাওয়া যাবে। দীর্ঘদিন ধরে হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন ছাত্রীদের অনেকে।

আরও