পিকে হালদারের ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বিশ কোটি ৭০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা পাচারের অভিযোগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন

বিশ কোটি ৭০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন তা পাচারের অভিযোগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পিকে হালদারের আয়কর আইনজীবী সুকুমার মৃধা, তার স্ত্রী সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার (অপারেশন) তাপসী রানী শিকদার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা ছাড়াও পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই ভাই অসীম কুমার মিস্ত্রি স্বপন কুমার মিস্ত্রিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পরপর আসামি অসীম কুমার মিস্ত্রিকে গত সোমবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে অবৈধ পন্থায় নিজ নামে অন্যদের নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২০ কোটি ৭০ লাখ হাজার ৮৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।

পিকে হালদারের অবৈধ সম্পদ অর্জন পাচারের অভিযোগে এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে গত ২১ জানুয়ারি সুকুমার মৃধা তার মেয়ে অবন্তিকা মৃধাকে গ্রেফতার করে দুদক।

গত ২৪ ২৫ জানুয়ারি পাঁচটি ভুয়া কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ৩৩ জনকে আসামি করে পাঁচটি মামলা করে দুদক। সব মামলাতেই আসামি হিসেবে রয়েছে পিকে হালদারের নাম। আসামিদের মধ্যে পিকে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক এমডি রাশেদুল হককে ২৪ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করে দুদক। রাশেদুল হক আদালতে ১৬৪ ধারায় অর্থ আত্মসাতে নিজের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।  

গত ১৩ জানুয়ারি পিকে হালদারের আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় দুদক। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় পিকে হালদারের আরেক সহযোগী শংখ ব্যাপারীকে।

গত বছরের  জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা পাচারেরও অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন। পিকে হালদারকে গ্রেফতারে এরই মধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। এছাড়া তার মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আরও