বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া, গান, বাজনা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে পারদর্শী হয়ে শক্তিশালী দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু খেললে হবে না, লেখাপড়া ও সৃজনশীল কাজেও এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে, গতকাল ছিল যার চূড়ান্ত খেলা। বেলা ২টা ২০ মিনিটে ছেলেদের ফাইনাল ও বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু হয় মেয়েদের ফাইনাল শুরু হয়। বিকাল ৪টায় স্টেডিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বর্ণিল ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও দর্শকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম ঘুরে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ও অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের বালিকাদের ফাইনাল ম্যাচ উদ্বোধন করেন।
খুদে ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে মাঠের বাইরে বসে মেয়েদের ফাইনাল দেখেন প্রধানমন্ত্রী। খেলা শেষে তিনি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালক বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তবে অবশ্যই নানা ধরনের খেলা খেলতে হবে। এ বছর এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়ে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। পরের বছর প্রাইম মিনিস্টার কাপের আয়োজন করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর ২২ লাখ বালক-বালিকা এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শুধু ফুটবল খেললে হবে না। ক্রিকেট খেলতে হবে, সাঁতার কাটতে হবে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তোমাদের সবকিছুতে এগিয়ে যেতে হবে, সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে।’
অলিম্পিক নিয়ে লক্ষ্য ঠিক করার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি কুঁড়ি স্পোর্টসের কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা প্ল্যান করেছিলাম যে আমরা যদি দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পাই, তাহলে আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের জন্য যেমন খেলাধুলার আয়োজন করব। যেমন ছোট বন্ধুরা যাতে সবুজ মাঠে খেলতে পারে, তার জন্য নতুন নতুন মাঠ বের করব। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই কাজগুলো শুরু করেছি। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখো ক্রিকেট দিয়ে এখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে চেনে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমকে চেনে বলে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকেও চেনে। কাজেই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশকে চিনবে ইনশাআল্লাহ, সুইমিং দিয়ে আমাদের চিনবে ইনশাআল্লাহ, হকি দিয়ে আমাদেরকে চিনবে ইনশাআল্লাহ, টেনিস দিয়ে আমাদেরকে চিনবে ইনশাআল্লাহ। সব রকম খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে তোমরা সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করবে। সারা বিশ্বে তোমরা বাংলাদেশ দেশের অ্যাম্বাসেডর হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, একেএম শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন ও আবুল হোসেন খান, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।