জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ভারতীয় ফ্যাসিবাদ থেকে বের হয়ে ইসলাম এবং সার্বভৌমত্বের ইস্যু নিয়ে বিচার ও সংস্কার যেন বাস্তবায়ন করতে পারি, সেজন্য কাজ করছি। গণভোটের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে সংস্কারের জন্য, কিন্তু সেই সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা সেই ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই করব। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে এক বিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না। আজ শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার ঘাটে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এর একটি সংস্কার, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের যেসব সন্ত্রাসী আছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করছি। এছাড়া যারা মানুষের পকেট কেটেছিল, ব্যাংক লুট করেছিল, শেয়ারমার্কেট শূন্য করেছিল- তাদের যাতে আইনের আওতায় আনা যায় সেজন্য মানুষের কাছে যাচ্ছি, কাজ করছি। আরেকটি বড় বিষয় হলো ভারত থেকে পুশ-ইনের চেষ্টা চলছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে যেন যেতে পারি- সেজন্য নাগরিক পার্টি কাজ করছে।
বাগেরহাটের উন্নয়ন ইস্যুতে পাটওয়ারী বলেন, বাগেরহাটে শেখ পরিবার রাজত্ব করেছে, শেখের নাম বিক্রি করেছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে কিছু হয়নি। এখান থেকে শেখ পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য বাগেরহাটবাসীকে অভিনন্দন জানান তিনি।
এনসিপির এ নেতা আরো বলেন, এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখান থেকে এলাকার ও দেশের মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মুসলিমদের গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্যের চর্চা হবে।
বিএনপি সরকারকে অবশ্যই বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি বিএনপি সরকার ৭৫ শতাংশ মানুষকে ডিনাই (অস্বীকার) করে, তাহলে এ সরকারের পতন-ধ্বনি বাজতে সময় লাগবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করেন তিনি। এ সময় সেখানে এনসিপির বাগেরহাট জেলা সমন্বয়ক সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সোহেল, দলের নেতা আল আমিন খান সুমন, লাবিব আহমেদ, আল আমিন, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরজিন আরোবী নওরিনসহ ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও দলের বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এরপর বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে যান। সেখানে মসজিদের পশ্চিম পাশে ঘোড়া দিঘির দক্ষিণ পাড়ে বৃক্ষরোপণ শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে জুআর নামাজ আদায় করেন।