আইএমএফের তাগাদা সত্ত্বেও কোনো সরকার বিপিসিতে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা করেনি

বিপিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর সংস্থাটি মুনাফা করতে শুরু করে। এরপর ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ২০১২ সালের এপ্রিলে এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি চুক্তি করে তৎকালীন সরকার। সেই চুক্তির আওতায় আইএমএফের কাছ থেকে ৯৮৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেয় বাংলাদেশ। তবে এ ঋণের ২৮০ মিলিয়ন ডলার ছাড় করতে একটি শর্ত জুড়ে দেয় আন্তর্জাতিক সংস্থাটি—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরীক্ষা করাতে হবে। শুরুতে এ শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় তখনকার সরকার, যদিও পরবর্তী সময়ে শর্তপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয় তারা।

বিপিসির অনিয়ম ও অডিট আপত্তি নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে বিস্ময় প্রকাশ করে খোদ ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি’। সে সময় বিপিসির তেল কেনাকাটা, অডিট আপত্তি নিষ্পন্ন না হওয়া, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। কিন্তু বিপিসিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট করার কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কারে একাধিক কমিশন গঠন করে। কিন্তু বিপিসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অডিট আপত্তি যাচাইয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকারও। বিপিসির অস্বচ্ছতা এবং অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বর্তমান সরকারও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা, করপোরেশন ও বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ বেশ পুরনো। বিশেষ করে গত দেড় দশকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্প ও কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) দপ্তরের নিরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বেসরকারি ব্যাংক-আর্থিক খাতের অলিগার্কসহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত ও নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, করপোরেশন ও বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি নিরীক্ষা করে দেখার উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিপিসির লোকসানের হিসাব দেখিয়ে দেশে বিভিন্ন সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে বিপুল মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলে ২২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লোকসানের কথা উল্লেখ করে ডিজেল-কেরোসিন-পেট্রল-অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এক লাফে জ্বালানি পণ্যের দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা তাদের অসুবিধার কথা জানাচ্ছেন। বিগত সময়ে বিপিসির বিপুল মুনাফা, জ্বালানি তেল ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে হিসাব নিরীক্ষার বিষয়গুলো সামনে আনছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে, সেই কারণ দেখিয়ে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ বিপিসি যখন লাভ করে তখন কিন্তু সেই লাভের সুফল ভোক্তা পায় না। বছরের পর বছর বিপিসি লোকসানের প্রাক্কলন করে, অথচ তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে বিপুল পরিমাণ লাভের চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবনিকাশের প্রাক্কলনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ বরাবরই। তাদের হিসাব-নিকাশে অস্বচ্ছতা না থাকলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কখনই অডিটের বিষয়টি টানত না। আমি মনে করি, সরকারের রাজস্ব আয়ের বৃহৎ জায়গায় ভোক্তার কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা দরকার।’

বিপিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর সংস্থাটি মুনাফা করতে শুরু করে। এরপর ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে। এর মধ্যে শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এ সময়ে মুনাফার ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে লভ্যাংশ, কর ও অন্যান্য বাবদ জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। এছাড়া কিছু অর্থ উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিচালন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অতীতের পুরো মুনাফার অর্থ বিপিসির হাতে নেই। বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য না রেখে সংস্থাটি নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা কেন সরকারের কোষাগারে দেয়া হয়েছিল এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হলো। এ অর্থ জ্বালানি তেলে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা যেত কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিপিসির হাতে যে অর্থ ছিল তা দিয়ে এতদিন জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয় করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরু হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে। বিপিসির কোষাগারে অর্থ ছিল বলেই এতদিন পর্যন্ত বিপিসি মূল্য সমন্বয় না করে থাকতে পেরেছে। ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা যে লোকসান দিতে পারল, এটা অ্যাফোর্ড করতে পারল কোত্থেকে? একটা সময় এটি লাভ করেছে কিংবা তার কাছে অতিরিক্ত অর্থ ছিল বলেই এটা করতে পেরেছে।’

সংস্থাটির আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আইএমএফ ইন্টারন্যাশনাল ফার্ম দিয়ে অডিট করার কথা বলেছে—এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ যে অডিট করার কথা বলেছে, সেখানে প্রথম কথা হচ্ছে, একটি সরকার বা রাষ্ট্র যখন ঋণ নেয়, তখন তারা কিছু শর্ত দেয়। আইএমএফের নেয়া ঋণ গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে নেয়া ঋণ নয়। ফলে বিগত দিনের সরকার কী শর্তে ঋণ নিয়েছে, তারা বলতে পারবেন। শর্ত প্রতিপালনে যদি কোনো দায় থাকে, নিশ্চয়ই সেই শর্ত প্রতিপালনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

দেশে জ্বালানি তেল আমদানি-বিপণনের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটি বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ‍ও যমুনার মাধ্যমে সারা দেশে তেল সরবরাহ করে। বিপিসির আমদানি করা জ্বালানি তেল, আমদানির বিল পরিশোধে অতীতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বিপিসির তেল আমদানির পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে কত, ব্যয় কত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে মূল্য পরিশোধ করতে হয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, তারা সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে। আর বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানীকৃত জ্বালানি তেলের হিসাব ধরলে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো। একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, সে সময় বন্দরে শুল্কায়িত মোট আমদানীকৃত জ্বালানি তেল ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো। পেট্রোলিয়াম ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে সংশ্লিষ্ট তিন সংস্থার এ তিন ধরনের তথ্যের কারণে সেই অর্থবছরে বিপিসি প্রকৃতপক্ষে কত টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

২০২২ সালে বিপিসির তিনটি অর্থবছরের অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা (অডিট) আপত্তির কথা উঠে আসে তৎকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সেখানে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিপিসির ২০০৯-১০, ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরের অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। নিরীক্ষা কমিটির বৈঠকে দুই মাসের মধ্যে নিরীক্ষা অধিদপ্তরে নথিপত্র দিতে বিপিসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সে সময় কমিটিকে কোনো নথিপত্র সরবরাহ করেনি। এমনকি সে সময় একটি আপত্তিতে হিসাব ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, বিপিসির স্থিতিপত্রে (ব্যালান্সশিট) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে দেয়া ঋণের যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে ওইসব প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের স্থিতিপত্রে দেখানো অংকে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার গরমিল দেখা গেছে।

কেপিএমজি বাংলাদেশের পার্টনার আশরাফ জামান আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জনস্বার্থ জড়িত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ করে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে জ্বালানি এমন একটি পণ্য, যার প্রভাব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে সরাসরি পড়ে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে সরকারের নীতিনির্ধারণও অনেক বেশি কার্যকর হবে। তারা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং সঠিকভাবে নীতি প্রণয়ন করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সেটি চিহ্নিত করতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করানো যেতে পারে।’

বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতে একটি সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের কথা আলোচিত হতো বিগত সময়ে। সে প্রবণতা এখনো রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। জিটুজি চুক্তির বাইরে দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল ক্রয়ে ঘুরেফিরে চার-পাঁচটি কোম্পানিকে প্রাধান্য দেয়ায় একটি সিন্ডিকেট কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রিমিয়াম কেনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্য হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ প্রিমিয়াম ক্রয়ে অন্তত বছরে ৪-৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে।’

অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে খরচ করে, তাদের অডিটের গুণগত মান ঠিক রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা অডিট হওয়া প্রয়োজন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির ক্ষেত্রে ন্যূনতম বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ডে নেয়া যেতে পারে। এটা করা গেলে রাষ্ট্রের ৫ শতাংশ অর্থও যদি অপচয় রোধ হয় সেটাও বড় সাশ্রয়। বিদেশি কোম্পানি দিয়ে আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের অডিট করার কথা বহু আগেই বলা হয়েছিল, কিন্তু এক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে। যদি এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হয় তাহলে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে আইন সংশোধন করতে হবে।’

বিভিন্ন সময় বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে (এসএওসিএল) ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় এসএওসিএলের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন, বেলায়েত হোসেন ও উপব্যবস্থাপক মো. আতিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিপিসির বেশকিছু কর্মকর্তার বিলাসী জীবন, ফ্ল্যাট, প্লটের মালিকানা অর্জনের মতো অভিযোগও রয়েছে।

বিপিসির অডিট, অনিয়ম কিংবা সংস্থাটি নিয়ে যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, সে বিষয়টি অস্বীকার করেননি বিপিসির সাবেক কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় তারা চেষ্টা করেছেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর, কিন্তু নানা কারণে তা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি।

২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আমিন উল আহসান। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি। বিপিসিতে অডিট করতে আন্তর্জাতিক ফার্ম নিযুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অডিটের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। বরং আমি নিজেই বিপিসির স্বচ্ছতার জন্য কস্ট অডিটের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম, কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর এ বিষয়ে তেমন কিছু করা যায়নি।’

বিভিন্ন সময় ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে অডিটের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিপিসির বর্তমান চেয়ারম্যান।

জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অডিট ফার্ম দিয়ে বিপিসির নিরীক্ষা করার বিষয়টি বহু আগে উঠেছিল। বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। বিপিসির হিসাব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দায়িত্ব নেয়ার পর আমি প্রাথমিক আলোচনা করেছি। আন্তর্জাতিক মানে নিরীক্ষা করার ক্ষেত্রে আইনগত দিক ঠিক রেখে কীভাবে করা যায় সেটা স্বচ্ছভাবে করার চেষ্টা রয়েছে। অন্তত হিসাবের ক্ষেত্রে বিপিসির স্বচ্ছতা ভোক্তার কাছে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকবে সেই চেষ্টা থাকবে।’

আরও