‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৪’-এর প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। প্রথমবারের মতো এককভাবে মেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি। এবারের বইমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতে সদ্য চালু হওয়া মেট্রোরেল বাড়তি সুবিধা দেবে বলে আশা করছেন আয়োজন প্রতিষ্ঠান ও পুস্তক বিক্রেতারা। তবে মেলার পরিসর ছোট হওয়ায় ভিড় সামলাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছেন প্রকাশকরা।
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে এবারের বইমেলা। ’৫২-এর ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছরের মতো বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন হচ্ছে এ মেলা।
গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে চলছে স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ। সময়মতো স্টল ও প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগররা। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে স্টল নির্মাণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রির খণ্ডকালীন দোকান। পেরেক, দড়ি থেকে শুরু করে রঙ, ব্রাশসহ খুঁটিনাটি সবই পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে।
স্টল নির্মাণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজাম উদ্দিন। খণ্ডকালীন ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টল নির্মাণ করে দিচ্ছেন সহকারীদের নিয়ে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সঠিক সময়ে কাজ শেষ করে স্টল হস্তান্তর করতে হবে। স্টল তৈরি, রঙ, লাইটিং, ফিটিংস মিলিয়ে অনেক কাজ থাকে একটি স্টলে। সময় খুব কম, তাই বাড়তি কর্মী নিয়ে কাজ করছি।’
বিগত বছরের মতো এবারো মেলার মূল মঞ্চ হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবং বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। এবারো রমনা কালীমন্দিরের পাশে সাধুসঙ্গ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ‘শিশু চত্বর’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় মেলার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাসব্যাপী সেমিনারের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে এ মেলায়।
এবারের মেলায় ৪৪৮ নম্বর স্টল বরাদ্দ পেয়েছে আল-হামরা প্রকাশনী। সংস্থাটির স্বত্বাধিকারী খান মুহাম্মদ মুরসালীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবারের মেলার ডিজাইনটা সুন্দর। তবে গতবারের তুলনায় এবার স্টল নির্মাণের খরচ বেড়েছে প্রায় দেড়-দুই গুণ। অবশ্য মেট্রোরেলের কারণে এবার যাতায়াত ব্যবস্থা হবে স্বস্তিদায়ক। তাই আমি মনে করি ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। আর মেলার পরিসর ছোট হয়েছে। আবার মেট্রোরেলের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হলে কিছুটা অসুবিধা তৈরি হতে পারে।’
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে জানা যায়, বোর্ড দিয়ে একটি স্টল নির্মাণে সর্বনিম্ন খরচ হচ্ছে ২৫ হাজার টাকার মতো। বোর্ডের সঙ্গে কাঠ জুড়লেই দাম বেড়ে যাচ্ছে অনেক। কিছুটা নান্দনিক করতে হলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে ১০-১৫ হাজারের মতো। এ বছর স্টলের জন্য ৭৭টি প্রকাশনী প্রথমবারের মতো আবেদন করেছে। তার মধ্যে ২৩টি প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কমিটি।
এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৭৯টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অংশে নিরাপত্তার স্বার্থে টিনের বেষ্টনী তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া মেলায় সুষ্ঠুভাবে আলোকবিন্যাস, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, বাংলা একাডেমি স্টল, বাংলা একাডেমি প্যাভিলিয়ন, তথ্য কেন্দ্র, মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চের ইন্টেরিয়র কাজও প্রায় শেষের দিকে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, সমালোচনা এড়াতে এ বছর মেলার পুরো কাজ একাডেমি একাই করছে। আগের বছরগুলোয় মেলা আয়োজনে কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি জড়িত ছিল, যা নিয়ে গত বছর কিছু সমালোচনা হয়েছিল। গত মেলা শেষ হওয়ার পর পরই এবারের মেলার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং তিন ধাপে কমিটি গঠন করা হয়। প্রস্তুতি পর্বের জন্য কমিটি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য কমিটি এবং মাসব্যাপী মেলা পরিচালনার জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে।