হবিগঞ্জে ১২ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে আহত ৬০

নেত্রকোনায় আহত ৫০

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে মোটরসাইকেলের ব্যাটারি কেনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে মোটরসাইকেলের ব্যাটারি কেনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার রাতে টানা ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল তুচ্ছ ঘটনায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বাড়িঘরে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বাহুবলের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ২৫ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের এক তরুণ ব্যবসায়ী আকাশের সঙ্গে একই উপজেলার চারগাঁও গ্রামের রাসেলের মোটরসাইকেলের ব্যাটারি ক্রয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা ঝগড়ায় রূপ নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আঞ্চলিকতার টানে বানিয়াগাঁওয়ের পক্ষ নিয়ে আশপাশের আটটি গ্রাম এবং চারগাঁও গ্রামের পক্ষ নিয়ে আরো চারটি গ্রামের মানুষ যোগ দেয়। সংঘর্ষকালে অন্ধকারে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে মারামারি করতে দেখা যায় ওই লোকজনকে। এ সময় মিরপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয়।

গ্রামে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সংঘর্ষে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষের সময় মিরপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে প্রথমে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ৯টার দিকে। সংঘর্ষে তিনজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে গতকাল দুপুরের দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছবিলা গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ দুজনের বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।

ছবিলা গ্রামের বাসিন্দা সোহান আহমদ জানান, কিছু দিন আগে তাদের গ্রামের আজাহারুল ও বলাইশিমুল গ্রামের একজনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। দুগ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিশের ব্যবস্থা করলে বৈঠকে ছবিলা গ্রামকে নিয়ে কটাক্ষ করে অপমান করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে দুপুর পর্যন্ত উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুই গ্রামের মধ্যবর্তী হাওরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০-৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘‌বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েকজন আহত হলেও গুরুতর কেউ নেই। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।’

আরও