জরুরি কাজে অথবা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও এখনো কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা বর্ষা মৌসুমে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। এসব স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন নারী, শিশু ও বয়স্করা যাতায়াত করছেন। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। হরিনাথপুর চর, বরইতলা, বেড়া খাওরুয়া, দসখাদা, মুলকান্দি, বাগভাংরা, নানাপুর চর ও বড়ধুলসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও বাজার-সংক্রান্ত সব ধরনের যাতায়াতে নৌকা ও সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল।
সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। বড় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হওয়ায় কৃষকদের স্থানীয় আড়তে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। নদীর ওপর প্রতি বছর স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এ কাজে বছরে আনুমানিক ৩৫-৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
আগুরিয়া গ্রামের হযরত আলী বলেন, ‘এখানে সেতু না থাকায় চলাচলের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সাঁকো নতুন করে বানাতে হয়। অনেকের সামর্থ্য নেই, তার পরও সাঁকো তৈরিতে অর্থ সহযোগিতা করেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?’ তিনি এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
হরিনাথপুর চরের বাসিন্দা আব্দুল কায়ুম (৬০) বলেন, ‘উপায় না থাকায় অনেক ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায় ২৫ বছর ধরে শুনছি এখানে একটি সেতু নির্মাণ হবে, কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’
বেড়া খাওরুয়া গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় আড়তে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।’
তিনি আরো বলেন, ‘নদীর ওপর সেতু না থাকলে মানুষ চলবে কীভাবে? যার কারণে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করতে হচ্ছে। তা না হলে এ গ্রামগুলো মূল জনপদ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’
আগুরিয়া গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে নিতে পারি না। কারণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। এতে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব খাঁন বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের কাছে অনেকবার আবেদন করেছি, কাজ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সেতু নির্মাণের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি, যার কারণে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, ‘কয়েকটি সেতুর তালিকা জেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে তালিকায় আগুরিয়ায় সেতু নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭৫টি সেতু নির্মাণ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগুরিয়া এলাকার সেতুর নাম তালিকায় থাকলে কাজ হবে, না থাকলে পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।’