সিটি করপোরেশন নির্বাচন

সাদিকের ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী খোকনের বাধা?

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ও বিশ্বস্ত ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের বিজয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এবার নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ৩০ কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে সাদিক আব্দুল্লাহর এ ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ও বিশ্বস্ত ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের বিজয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এবার নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ৩০ কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে সাদিক আব্দুল্লাহর এ ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নগরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। পাশাপাশি তার অনুসারী ৩০ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি, সম্পাদকরাও জনগণকে নানাভাবে হয়রানি করেছিলেন। নিজ বলয়ের লোক নিয়ে তারা পাঁচ বছর নির্বাচনী মাঠ গুছিয়েছেন। জানা যায়, এ ৩০ ওয়ার্ডে ৩০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা সাদিকের আগে থেকেই ছিল। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে সাদিকের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত তারই আপন চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের স্বপ্নভঙ্গ করতে মাঠে রেখেছেন তার অনুসারী ২৬ কাউন্সিলর প্রার্থীকে। ৩০ জনের বাকি চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তারা নির্বাচনের মাঠে নেই। 

২৬ জনের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর ১৩ জন। এর মধ্যে সিটির প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম ওরফে মামা খোকন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য ১২ জন দলের সাদিক অনুসারী নেতাদের নিয়ে নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত। তারা নৌকার পক্ষে কাজ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাদিক বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। মহানগর কমিটির ৭৫ জন পদধারীর মধ্যে সভাপতিসহ প্রায় সবাই তার পক্ষে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয় তার। এমনকি ৩০ ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকও তার অনুসারী। এ কারণেই সাদিকের পরিবর্তে খোকনকে দলীয় মেয়র প্রার্থী করায় ওইসব নেতাকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। 

সাদিক অনুসারী ২৬ প্রার্থী হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে রাশেদ খান মেনন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডে রইজ আহমেদ মান্না। নৌকা প্রতীক প্রার্থীর সমর্থকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মান্না এখন জেলে। জেলে থেকেই তিনি নির্বাচন করছিলেন। ৮ জুন উচ্চ আদালতের আদেশে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মোস্তাফিজুর রহমান অনিক, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. কেফায়েত হোসেন রনি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর খান মো. জামাল হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর এটিএম শহীদুল্লাহ কবীর, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মজিবর রহমান, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন রয়েল, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মেহেদী পারভেজ খান আবির, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাকিল হোসেন পলাশ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মো. রাজিব হোসেন খান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আক্তারুজ্জামান গাজী হিরু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ আরাফাত জামান বাবু, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ওবায়দুল হক ওরফে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আশ্রাফ খান, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাফিন মাহামুদ তারিক, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর এম সাইদুর রহমান জাকির মোল্লা, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম সুমন, ২৭. পারভেজ হাওলাদার, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর হুমায়ুন কবীর, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইমরান মোল্লা এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আজাদ হোসেন মোল্লা কালাম।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘মেয়র সাদিকের একান্ত সহযোগী ওবায়দুল হক ওরফে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হলেও নৌকার পক্ষে ভোট চাননি। উপরন্তু তার অনুসারীরা হাতপাখার পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’ 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় নিজের প্রচারে আমি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। সময়-সুযোগ পেলে নৌকার পক্ষেও ভোট চাচ্ছি।’

এ বিষয়ে খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনী দপ্তরের দায়িত্ব পালনকারী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি লস্কর নুরুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পদে থাকা যারা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন তাদের অনেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন না। বিষয়টি দলীয় ফোরামে জানানো হয়েছে।’ 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। আমরা নিশ্চিত বিজয়ী হব। আমাদের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত নগরবাসীর পছন্দের প্রার্থী। তারা তাকেই নির্বাচিত করবে।’ 

আরও