ইরাকে প্রবাসী খুন, নিহতের গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ীতে শোকের মাতম

সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে চলতি বছরের জুন মাসে ৭ লাখ টাকা খরচ করে আজাদ পারি জমান ইরাক শহরে। সেখানে তাকে দর্জীর কাজ দেয়ার কথা থাকলেও বাগদাদ শহরের আহম্মেদ মুসা নামের এক ব্যক্তির বাড়ির কাজ দেয়া হয়। দুই মাস কোন বেতন না দেয়ায় বাধে বিপত্তি।

মালিকের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দের জেরে ইরাকে গিয়ে খুন হয়েছেন প্রবাসী আজাদ আলী খান (৪৭)। হত্যার পর মরদেহ তিনখন্ড করে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অপর এক প্রবাসীর মাধ্যমে এ সংবাদ পেয়েছে আজাদের পরিবার।

মরদেহ ফিরে পেতে ও স্বজন হারানোর বেদনায় শোকের মাতম চলছে নিহত আজাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায়। যদিও মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডলের পাড়া এলাকার নিহত আজাদ আলী খানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে বাতাস। আশপাশের কয়েখগ্রামের মানুষ ভীড় করেছে এ বাড়িতে। এরমধ্যে কোন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না নিহত আজাদের ছোট বোন লাভলী আক্তারকে।

নিহত আজাদের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে চলতি বছরের জুন মাসে ৭ লাখ টাকা খরচ করে আজাদ পারি জমান ইরাক শহরে। সেখানে তাকে দর্জীর কাজ দেয়ার কথা থাকলেও বাগদাদ শহরের আহম্মেদ মুসা নামের এক ব্যক্তির বাড়ির কাজ দেয়া হয়। দুই মাস কোন বেতন না দেয়ায় বাধে বিপত্তি।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডলের পাড়া এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, আজাদ ভদ্র একজন মানুষ ছিলো। ধারদেনা করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পাড়ি জমিয়েছিল ইরাকে। এখন যেভাবেই হোক মরদেহটি যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি নিহত আজাদের চেলে মেয়েদের জন্য সহয়তা চেয়েছেন তিনি।

এদিকে প্রবাসী আজাদকে হত্যার পর বাগদাদ শহরের কাজুনিয়া থানায় আত্মসমর্পণ করেছে আজাদের কফিল আহম্মেদ মুসা।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক হত্যাকান্ড। মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনতে ও পরিবারটির পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত আছে উপজেলা প্রশাসন।

আরও