মৌসুমের শুরু থেকে পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত স্বল্প বিরতিতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আমের আকার বড় ও পুষ্ট হয়েছে। আমের গুণগত মানও বেশ ভালো। এ বছর নাটোরের বাগানগুলোতে গাছে গাছে আম ঝুলতে দেখে চাষীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। আম বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন। কিন্তু টানা অসহনীয় গরমের কারণে একসঙ্গে আম পেকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আমবাগান মালিকরা। সময়ের আগেই একসঙ্গে অনেক জাতের আম পেকে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। এতে বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা। অন্যদিকে গরমের কারণে আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং কমেছে দামও। বর্তমানে বাজারে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা কেজি দরেও আম পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে ক্ষীরশাপাতি, ৫ জুন লক্ষ্মণভোগ, ১৫ জুন ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন মোহনভোগ ও হাঁড়িভাঙা, ৩০ জুন ফজলি, ৫ জুলাই মল্লিকা, ১৫ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট গৌড়মতী আম সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া আম ক্যালেন্ডার আর ঠিক থাকছে না। সময়সীমা বেঁধে দেয়ার আগেই বাগান থেকে আম সংগ্রহ করতে হচ্ছে বাগান মালিকদের।
কারণ হিসেবে চাষীরা বলছেন, হঠাৎ করেই প্রচণ্ড গরম ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে আম ক্যালেন্ডারের আগেই গাছ থেকে আম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অধিক পরিমাণে আম পেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের গাছ থেকে আম পাড়তে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়ার কারণে বাজারেও তারা ঠিকমতো দাম পাচ্ছেন না।
নাটোরের নিচাবাজারে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে লক্ষ্মণভোগ ৫৫০-৭০০ টাকা, গোপালভোগ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০, রানীপছন্দ ১ হাজার ২০০, ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ও ল্যাংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা মণ দরে। কিন্তু ল্যাংড়া জাতের আম ১৫ জুনের পর বাজারে আসার কথা থাকলেও আগেই তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এতে অন্য জাতের আমের দামও কমে গেছে।
নিচাবাজারের খুচরা বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, ‘হঠাৎ করে নাটোর অঞ্চলে অসহনীয় গরম বিরাজ করছে। এতে মানুষও কম আম কিনছে। অথচ বাজারে আমের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।’
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ টন। গত বছর জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হলেও এবার বাম্পার ফলনের কারণে তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণে বেশকিছু জাতের আম আগেই পেকে গেছে। তাছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অনেক আম পরিপক্ব হয়েছে। যার কারণে বাগান মালিকদের সময়ের আগে আম পাড়তে হচ্ছে। তবে দাম যা-ই হোক, সাধারণ মানুষ পরিপক্ব আম খেতে পারছে। এতে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। যদিও বাগান মালিকদের কিছুটা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’