সাপমারা খাল পুনঃখনন

কাজ নিয়ে অসন্তোষ, সুফল নিয়ে সংশয়

১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সাপমারা খাল। তবে অনিয়মের অভিযোগ করে খননকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী খালটি খনন করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি ফেলা হচ্ছে খালপাড়েই। এতে বর্ষা এলেই খালটি আবার ভরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া খালপাড়ের সব স্থাপনাও এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয়নি। ফলে পুনঃখননের সুফল ভোগ নিয়েও সংশয় আছে।

১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সাপমারা খাল। তবে অনিয়মের অভিযোগ করে খননকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী খালটি খনন করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি ফেলা হচ্ছে খালপাড়েই। এতে বর্ষা এলেই খালটি আবার ভরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া খালপাড়ের সব স্থাপনাও এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয়নি। ফলে পুনঃখননের সুফল ভোগ নিয়েও সংশয় আছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সাপমারা খালটিও খনন করা হচ্ছে। ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটির ১৯ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের দরপত্র হয় ২০১৮ সালের আগস্টে। দরপত্রে এ কাজের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এবং কে-কে এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড বসির উদ্দীন। গত মার্চে খাল পুনঃখননের কার্যাদেশ দেয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী জুনে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে খাল খনন পর্যন্ত সব কাজেই অনিয়ম হচ্ছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি ১৮-২০ ফুট গভীর করার কথা থাকলেও খনন করা হচ্ছে ৮-১০ ফুট করে। খালে পানি থাকা অবস্থায় শুধু পলিমাটি কেটে খালপাড়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। আবার খালপাড়ের পাকা স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়নি।

খালপাড়ের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন ও দেবাশীষ জানান, একসময় সাপমারা খালকে কেন্দ্র করে দেবহাটা উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। পুরো সাতক্ষীরা জেলার জন্য এ খাল গুরুত্বপূর্ণ। খালটি মরিচ্ছাপ নদীর সঙ্গে ইছামতিকে যুক্ত করেছে। তারা বলেন, খালটি এখন যেভাবে খনন করা হচ্ছে, তাতে আগামীতে কোনো কাজে আসবে না। খননকৃত মাটি খালপাড়ে রেখে দেয়া হচ্ছে, যা বর্ষায় পানিতে ধুয়ে আবার খালে গিয়ে পড়বে।

পারুলিয়া বাজার এলাকার মো. আতিয়ার রহমান মোল্যা ও দীন আলী জানান, সাপমারা খালপাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। শুধু হতদরিদ্রদের ঘর ভেঙে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাকা দালান অক্ষত।

পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সন্নিকটে গড়ে ওঠা জলিল হ্যাচারি অ্যান্ড ফিড ফ্যাক্টরি ও পারুলিয়া বাজারে অবস্থিত মায়ারজাল শপিং সেন্টারের মতো স্থাপনা বহাল তবিয়তে আছে। অথচ খাল দখল করেই এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

খননকাজে অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল কালাম আজাদের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী সাপমারা খাল পুঃখনন করা হচ্ছে। তবে মাটি ফেলা বা রাখার জায়গা না থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিযেছে। খালের দুই পাড়ের লোকজন তাদের জায়গায় মাটি ফেলতে দিচ্ছে না। তাছাড়া খালের পানি বের করে দেয়ারও কোনো পথ নেই। খাল সঠিকভাবে খনন করতে হলে আগে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, প্রথম পর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পরবর্তী পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ এলেই আবার অভিযান শুরু হবে। এ কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ আসতে পারে। তবে খননকাজ সমাপ্ত হতে এখনো অনেক সময় আছে। তার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলা হবে।

আরও