নতুন বছরে সারা দেশে এক কোটি ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে কম দামে তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষকে ৮৭ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হয়েছে। বাকি ১৩ লাখ কার্ড ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিতরণ করার কথা। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় চার লাখ ফ্যামিলি কার্ড এখনো বিতরণ হয়নি। এতে কার্ড না পাওয়ায় স্বল্পমূল্যের টিসিবি পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব মানুষ।
টিসিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ফ্যামিলি কার্ড থাকার কথা ছয় লাখ, সেখানে বিতরণ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার কার্ড। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কার্ড বিতরণের কথা সাত লাখ, সেখানে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯ হাজার। ফলে দুই সিটিতে টিসিবির কার্ড পায়নি অন্তত ৩ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবুল কাসেম মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখনো অনেক কার্ডের চাহিদা রয়েছে। ১০ হাজারের মতো দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে বাকি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কাউন্সিল অফিসের লোকজন নিম্ন আয়ের মানুষ থাকে এমন এলাকায় গিয়ে কার্ড দিয়ে আসছে। কখনো কখনো আমরা পণ্যও পৌঁছে দিচ্ছি তাদের। কিন্তু মাঝে মাঝে টিসিবির ডিলারদেরই খুঁজে পাই না, তখন কষ্ট হয়।’
সরজমিনে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মুগদা, বাসাবো, সায়েদাবাদ, সদরঘাট, হাজারীবাগ ও ঢাকা উত্তর সিটির মিরপুরের রূপনগর, দারুসসালামসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ না পাওয়ায় টিসিবির পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব এলাকায় চাহিদা থাকার পরও কার্ড সরবরাহ হয়নি শতভাগ। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম জানালেন ভিন্ন কথা। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে আট হাজার কার্ডের চাহিদা ছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার দিয়েছি। কিন্তু এখন বাকি দুই হাজার কার্ড নেয়ার মতো লোক খুঁজে পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটিতে কিছু কার্ড এখনো বাকি আছে। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো বিতরণের জন্য সিটি করপোরেশনকে বলে দিয়েছি। এটা তাদের দায়িত্ব। তারা রমজানের আগে বকেয়া কার্ড বিতরণ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন। পুরো কার্যক্রমকে আমরা ডিজিটাল মাধ্যমে আনার চেষ্টা করছি। কিছু কাজ হয়েছে, পুরোটা হয়ে গেলে তখন কার্যক্রম আরো স্বচ্ছ ও সহজ হবে।’
প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নতুন বছরের টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ প্রকল্পের আওতায় একজন কার্ডধারী মাসে একবার ৬০ টাকা কেজি দরে এক কেজি চিনি, কেজিপ্রতি ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল ও ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবে।