নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম এনপিএর আত্মপ্রকাশ

‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’ এ স্লোগান সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা প্লাটফর্মটির পাঁচটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলনীতিগুলো হলো, গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে জাতীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এ প্লাটফর্মটি।

‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’ এ স্লোগান সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা প্লাটফর্মটির পাঁচটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলনীতিগুলো হলো, গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা।

এ সময় এনপিএর মুখপাত্র হিসেবে তিনজনের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন, ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত ও তুহিন খান। এ ছাড়া ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্লাটফর্মটির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিন মুখপাত্র। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গত পনের বছরে দেশে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও হয়রানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মানবাধিকার লঙ্ঘন চলেছে প্রকাশ্যেই। একই সময়ে অর্থপাচার, ব্যাংক লুট, বেকারত্ব এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। পরবর্তীতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন জুলাই মাসে নতুন মোড় নেয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে সহস্রাধিক নাগরিক নিহত হন। এ রক্তপাতই আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে দলবলসহ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়।

ঘোষণা পত্রে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে, যারা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক প্রশ্নগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। যারা নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণে মনোযোগী হবে। এ প্রেক্ষাপটেই জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আমরা যাত্রা শুরু করছি।

আরও