চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১০০ ছাড়িয়েছে আহতের সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তার বাহিনীর কোনো সদস্য না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে প্রশাসন, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ২নং গেট এলাকায়ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এদিকে চবি মেডিকেলে কিছুক্ষণ পরপরই আহত শিক্ষার্থীদের আনতে দেখা গেছে। তাদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। গুরুতর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। সর্বশেষ ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ২ নং গেটের ভেতরের এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসের ১নং গেট এলাকা দিয়ে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শিক্ষার্থীরা জানান, রাত থেকে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই গুরুতর আহত। কাম্পাসজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন সকালে এলে তারাও আহত হয়েছেন। ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা করছে। এভাবে চলতে থাকলে রাতে এরা আমাদের হলে, কটেজে হামলা করবে। আমাদের দেখার কেউ নেই।
আনোয়ার নামের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বণিক বার্তাকে জানান, সকাল থেকে ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য কাউকে দেখা যায়নি। সেখানে অনেক কটেজ আর মেসে আমাদের ভাই-বোনেরা আছে। সেখানেও দুর্বৃত্তরা হামলা চালাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী আহত। এখনো ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি আসতো তাহলে শিক্ষার্থীদের মূল ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা সম্ভব হতো।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পাসে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।