বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে তিন বছরের ছুটি নিয়ে ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে কানাডা পাড়ি দেন সিনিয়র যোগাযোগ প্রকৌশলী মো. ইখতিয়ার ইসলাম। গত মার্চে ছুটির মেয়াদ শেষ হলে আবারো দুই বছরের ছুটির আবেদন করেন তিনি। তবে বেবিচক আবেদনটি বিবেচনায় না নিলে পরবর্তী সময়ে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে প্রায় ছয় মাস ধরে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় প্রকৌশলী মো. ইখতিয়ার ইসলামের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে বেবিচক।
জানা গিয়েছে, গত মাসে সিনিয়র যোগাযোগ প্রকৌশলী মো. ইখতিয়ার ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে বেবিচক। বিষয়টি জানিয়ে গত ২৫ আগস্ট অভিযুক্ত প্রকৌশলীকে চিঠি দেয় বেবিচক। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু আপনি অনুমতিসহ দেশ ত্যাগ করে বিনা অনুমতিতে অনুমোদিত সময়ের পর গত ১৪ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করছেন এবং এতে কর্তৃপক্ষের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। আপনার এ কার্যকলাপ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২১ এর ৪৯ (গ) বিধি অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে আপনাকে (মো. ইখতিয়ার ইসলাম) চাকরি বিধি অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো। একই বিধিমালার ৫০(১)(খ)(উ) বিধি অনুযায়ী, কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ করা হবে না সেটিও চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, মো. ইখতিয়ার ইসলাম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিনিয়র যোগাযোগ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত হিসেবে থাকা অবস্থায় কানাডার ভিএ-সিস্টেম ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠানে ওয়্যারলেস টেকনিশিয়ান পদে বৈদেশিক চাকরিতে যোগ দিতে বেবিচকে আবেদন করেছিলেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে মো. ইখতিয়ার ইসলামের অনুকূলে ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিন বছর লিয়েন মঞ্জুর করে বেবিচক। পরবর্তী সময়ে গত ১৩ মার্চ লিয়েনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি বেবিচকে স্বপদে যোগদান না করে কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে দুই বছর লিয়েন বৃদ্ধির আবেদন করেন, যা বেবিচক কর্তৃক বিবেচিত হয়নি। তার লিয়েন বৃদ্ধির আবেদন বিবেচিত না হওয়ায় বিষয়টি গত ২৫ এপ্রিল চিঠি দিয়ে মো. ইখতিয়ার ইসলামকে জানায় বেবিচক। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে কাজে যোগ দিতেও আদেশ দেয়া হয়। এসব চিঠি দূতাবাসের ই-মেইলে পাঠায় বেবিচক। পরবর্তী সময়ে শরীরে গুরুতর ব্যাধির কথা উল্লেখ করে গত ২০ জুলাই আবারো দুই বছরের লিয়েন ছুটির আবেদন করেন তিনি। সেটিও বেবিচক কর্তৃক নামঞ্জুর হয়।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি নিয়ম মেনে ছুটি নিয়ে বিদেশে যেতে চায় তাকে তো আর আটকানো যায় না। অনেকের পরিবার, স্বজন বিদেশে থাকে। মানবিক কারণে তাদের ছুটি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এক্ষেত্রে আরো সতর্কতা নেবে বেবিচক।