সাতক্ষীরায় কলকাতা খালে বিলীন রাস্তা, বিপাকে চার উপজেলার মানুষ

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলকাতা খাল এক সময় এপার বাংলা-ওপার বাংলার জলপথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। খালটির দুই পাশে এলজিইডির রাস্তা রয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাগমারী এলাকার এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে এক কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাগমারী রাস্তাটি কলকাতা খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাটির বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে সদর, দেবহাটা, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলকাতা খাল এক সময় এপার বাংলা-ওপার বাংলার জলপথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। খালটির দুই পাশে এলজিইডির রাস্তা রয়েছে।

বাগমারী গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান, ইদ্রিস আলী ও আতাউল হোসেন জানান, ২০২৩ সালে খালের পাশে শেষ হওয়া বাগমারী রাস্তাটির অর্ধেকের বেশি অংশ জোয়ার-ভাটার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় রাস্তার বাকি অংশও খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে করে এলাকার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, সিএস ম্যাপ না দেখে চরভরাটের জমিতে রাস্তা করায় এখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তা ভেঙে খালের পানিতে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যদি রাস্তা নির্মাণের আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে খালের পূর্বের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হতো, তাহলে এমন ক্ষতি হতো না। তিনি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০ মিটার প্রস্থের কলকাতা খালটি পুনর্খনন করা হয়। খালটি মরিচ্চাপ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পানির চাপ বেড়েছে। এ কারণেই রাস্তাটি ভেঙে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এখনই খালের বাঁধ মেরামত সম্ভব নয়। তবে এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে রাস্তা রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হবে।

সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, কলকাতা খাল খননের কারণে বাগমারী রোডের প্রায় চারশ মিটার রাস্তা ভেঙে গেছে। সতেরোশো মিটার রাস্তাটির এই অংশ বছর পার হওয়ার আগেই খালের জোয়ার-ভাটায় বিলীন হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, রাস্তা নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় দরকার ছিল। তা হলে হয়তো এত বড় ক্ষতি হতো না।

আরও