নারী দিবসে সম্মাননা পেলেন সামিনা লুৎফা ও ইলিরা দেওয়ান

‘‌অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন, নারী ও কন্যার উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

নারী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘‌নাসিমা আক্তার জলি স্মৃতি পদক’ সম্মাননায় ভূষিত হলেন লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। ‘‌অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন, নারী ও কন্যার উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১২ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই লেখক ও মানবাধিকারকর্মীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মিজ তানিয়া খান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি প্রমুখ।

এ সম্মাননা দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, নারী অধিকার নিশ্চিত, সহিংসতা প্রতিরোধে নারী ও কন্যাশিশুদের নিজের যোগ্যতা ও মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে নারী ও কন্যাশিশুদের বিকাশ, নিরাপত্তা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা।

ইলিরা দেওয়ান বলেন, জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ নারী। সংখ্যায় বেশি হলেও গুণগত ও অধিকারের দিক থেকে নারীরা এখনও পিছিয়ে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসী নারীরা অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। তবে আশার কথা, জুলাই-আগস্টের পর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে এবং এ দেশ হয়ে উঠবে বাসযোগ্য বাংলাদেশ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমি মনে করি, সরকারকে নারীর নিরাপত্তা রক্ষায় আরো সোচ্চার ও তৎপর হতে হবে। একইসঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকে যদি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করি, তাহলে আমি থেকে আমরা হয়ে উঠব। সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অনলাইনেও সোচ্চার হতে হবে। নাগরিকরা সোচ্চার ও প্রতিবাদী হলে নারীর প্রতি সহিংসতা কমে আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মিজ তানিয়া খান বলেন, ‌নারীরা যোগ্য ও দক্ষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ক্ষমতায়ন হয়। অনেকক্ষেত্রে নিজেদের অপারগতা জানাতে গিয়ে নারীরা নিজেদের দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করে। তাই নারীকে আত্মবিশ্বাসী আর প্রতিবাদী হতে হবে। জুলাই-আগস্টে বিপ্লবে আমাদের মেয়েরা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। একইভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আবারো নারীরা সোচ্চার হলে অপরাধীরা পার পাবে না।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ‌নারীরা জন্মের পর থেকেই বৈষম্যের শিকার হয়। কিন্তু এর জন্য তারা নিজেরা দায়ী না। নারী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না। পরিবার, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্র নারীর ওপর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। আজকে সহিংসতা বাড়ছে, হয়রানি বাড়ছে। এর কারণ নারীরা সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী নয়। আমি মনে করি, সুলক্ষী নারীরা কখনো ইতিহাস গড়তে পারে না। ইতিহাস গড়ে সোচ্চার, সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী নারীরা। তাই নারী ও কন্যাশিশুদের উচিত নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তোলা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসী হওয়া।

অনুষ্ঠানে নারী অধিকার আদায়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও স্কুল কলেজের নারী সদস্যরা অংশ নেন।

আরও