বিজ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ ও সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানচর্চা জরুরি বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বিজ্ঞান কেন পড়তে হবে, কেন শিখতে হবে, কীভাবে বিজ্ঞনেচর্চার মাধ্যমে আমরা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারব, সেটা শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি করতে হবে। সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানচর্চা জরুরি, যা বর্তমান শিক্ষা নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি, বিজ্ঞানকে খুব গুরুত্ব দিয়েছি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এ শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেশি।’
গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল মিলনায়তনে ‘১৩তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৩’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। অলিম্পিয়াডের গণমাধ্যম সহযোগী ছিল বণিক বার্তা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের চার দেয়ালের মাঝে আটকে রাখতে চাই না। আমরা চাই তারা চারদিকের পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক এবং সেটা আনন্দের সাথেই গ্রহণ করুক। বঙ্গবন্ধু ঔপনিবেশিক শিক্ষা বাদ দিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়তে ড. কুদরত-ই-খোদাকে শিক্ষা কমিশনের পরিচালক করে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তেমনই প্রধানমন্ত্রীও সেই নীতিকেই আবারো বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে, যা সব শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে।’
সারা দেশ থেকে বিজ্ঞানমনস্ক ও মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতি বছর এ অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২৮টি কেন্দ্রে প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের নির্বাচন করা হয়। পরে মূল প্রতিযোগিতায় স্কুল ও কলেজ ক্যাটাগরিতে ৩০ জন করে মোট ৬০ জনকে জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা শেষে বিকালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পুরস্কার হিসেবে ছিল প্রাইজমানি, সার্টিফিকেট, মেডেল ও বই। এ সময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর দেন।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক ড.আব্দুল হামিদ মিয়া সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সেক্রেটারি অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও জাতীয় অলিম্পিয়াড একাডেমির আহ্বায়ক শমসের আলী খান প্রমুখ।
শমসের আলী খান বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞানকে দেশের একটি অঙ্গ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছি। এটা শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় নয়। ২২ বছর ধরে বিজ্ঞানীদের বহু প্রচেষ্টার ফলে ন্যানো টেকনোলজির সৃষ্টি যা বিজ্ঞানের অনবদ্য আবিষ্কার। নজরুলের সেই বিশ্বকে হাতের মুঠোয় দেখার সুযোগ করেছে ন্যানো টেকনোলজি। এ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানের মূল বিষয়ের সাথে পরিচিত করানো। যেন উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।’