সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে যশোর, টঙ্গী ও গাজীপুরে। এসব কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিশু-কিশোর অপরাধী রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে প্রকট জনবল সংকট। সমাজসেবা অধিদপ্তর সামাজিক সুরক্ষায় যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তার প্রতিটি খাতেই একই চিত্র। সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উঠে আসে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাজের বিস্তর পরিধি ও তাদের প্রকট জনবল সংকটের বিষয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৫ সালে দেশে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৬১ সালে সমাজসেবা পরিদপ্তরের সৃষ্টি হয়, যা পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরে উন্নীত হয়। এ অধিদপ্তরের কার্যক্রম প্রথম দিকে ছিল শহরভিত্তিক ও সেবামূলক। সময়ের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এ অধিদপ্তরের কার্যক্রম দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের দুস্থ, অবহেলিত, পশ্চাত্পদ, দরিদ্র, এতিম, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী এবং সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘জেলা হেডকোয়ার্টার কমপ্লেক্সগুলোয় কোনো দারোয়ান বা নৈশপ্রহরী নেই।’ সরকারি মালামাল হেফাজত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দারোয়ান বা নৈশপ্রহরী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে তিনি বৈঠকে উপস্থিত সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে বলেন।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ‘যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের সময়ই প্রয়োজনীয় সব জনবলসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করে পরিপূর্ণভাবে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করতে হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর হাসপাতালে সমাজসেবা কার্যক্রম ও সেবা প্রদান করে থাকে। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫২৮টি ইউনিটে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রোগীকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬ জন।
কমিটির সদস্য বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘রোগীকল্যাণ সমিতিগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজকল্যাণমূলক বহুবিধ কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণধর্মী রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষ একটি অবস্থান নিয়েছে। সোশ্যাল সেফটি নেট কার্যক্রম বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। এসব কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচার এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য জনবল সংকট দূর করা প্রয়োজন।’ আ কা ম সরওয়ার জাহান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের জনসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজের পরিধি দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, কিন্তু জনবল সংকট খুবই প্রকট।’ আরমা দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশে সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম খুবই সফল। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।