চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'যদি অভাবের কারণে এসব করেন, তাহলে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা ভাগ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।'
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের জন্য ভোট চান ডা. শফিকুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, যারা গত ৫৪ বছর ধরে দেশটাকে ভোগ করেছে, লুটেপুটে তছনছ করেছে—তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রে পরিবর্তন না এলে দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের সমস্যা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, উপরে থেকে তাকালে পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি দেখা যায়। প্রতিবছর নদী খননের জন্য বাজেট থাকে, কিন্তু সেই টাকা নদীতে না গিয়ে কারও কারও পেটে চলে যায়। বালু ওঠে না, খননও হয় না। উন্নয়নের নামে গত ৫৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সবাই কমবেশি একই কাজ করেছে।
৫ আগস্টের পর সারাদেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু হয়েছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, শত শত মানুষকে অন্যায় মামলায় জড়ানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
একই সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি অভাবের কারণে এসব করেন, তাহলে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা ভাগ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।
কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ থাকার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্বজুড়ে শিল্পায়ন হচ্ছে, আর আমাদের এখানে একের পর এক কলকারখানায় তালা ঝুলছে।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা, জামায়াতের কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের প্রার্থী আফজাল হুসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।