কুশিয়ারায় পানি নেই, সেচ ব্যাহত

কুশিয়ারা নদীর হবিগঞ্জের বানিয়াচং অংশ শুকিয়ে গেছে। এক কালের খরস্রোতা নদীটিকে এখন যেন দিগন্তবিস্তৃত মাঠ বলেই মনে হয়।

কুশিয়ারা নদীর হবিগঞ্জের বানিয়াচং অংশ শুকিয়ে গেছে। এক কালের খরস্রোতা নদীটিকে এখন যেন দিগন্তবিস্তৃত মাঠ বলেই মনে হয়। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে নদীর তীরবর্তী ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা।

সরজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর গতিপথটি শুকিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীটি খনন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে পানি না থাকায় সংকটে পড়েছেন চাষীরা। পানির অভাবে কাগাপাশা ইউনিয়নের এবং কুশিয়ারা, বুরাজুর ও সুটকি নদীর দুই পাড়ের কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অথচ এ এলাকাটি বছরের ছয় মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষক আরব আলী জানান, একমাত্র বোরো ধান আবাদ করে এ এলাকার চাষীরা সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করেন। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা হাওর এলাকার কৃষকরা ব্যাংক কিংবা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ও ধারদেনা করে বছরের একমাত্র ফসলটির আবাদ করেন। এবার সেচের অভাবে সম্ভাব্য ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌ফসল নষ্ট হলে আমাদের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

আব্দুর রউফ নামের অপর এক কৃষক জানান, রোপণ করা ধানের চারাগুলো বেড়ে উঠছে। এখন জমিতে সেচ দেয়া দরকার। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন আগেই বন্ধ হয়ে গেছে বিএডিসি কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন সেচ পাম্পগুলো।

দেশের খাদ্য চাহিদার সিংহভাগ জোগান আসে বোরো ধানের বদৌলতে। বোরোর চাষাবাদ পুরোটাই সেচনির্ভর। আর এ সেচনির্ভর বোরো চাষাবাদে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে ধনপুর গ্রামের বিএডিসির সেচ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ইজাজুল ইসলাম তালুকদার জানান, এবার নদীতে পানি না থাকায় সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাষীদের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেছে। এদিকে নদীতে যেমন পানি নেই। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাওয়ায় এলাকার গভীর নলকূপেও সহজে পানি উঠছে না। ফলে চাইলেও চাহিদামতো পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে নদী খনন প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী বলেন, ‘‌কুশিয়ারা দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় শুকিয়ে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু কৃষক নয়, কয়েক হাজার জেলে পরিবার দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।’

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান বলেন, ‘কৃষির ক্ষেত্রে সেচ সমস্যা সারা দেশেই আছে। আমরা কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বোরো আবাদেও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানাব।’

আরও