২০৩৫ সালের মধ্যে এ অর্থ বিদ্যুৎ খাতের সঞ্চালন ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এডিবির বিপুল এ বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য জোরদারে গ্রিডে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ উন্নত করা। অবস্থানগত কারণে আন্তঃসীমান্ত গ্রিড সংযোগে বড় সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশও।
এ বিষয়ে কথা হলে এডিবির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এমন এক অবস্থানে রয়েছে; যার পাশেই ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দুটি আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে—প্রথমত বিমিসটেক ও দ্বিতীয়ত সাসেক। ভৌগোলিকভাবে এসব দেশের মধ্যভাগে অবস্থান করায় বাংলাদেশেরও বড় সুবিধা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, ‘জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগই ভবিষ্যতের এশিয়াকে নির্ধারণ করবে। সীমান্তজুড়ে বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে পারলে খরচ কমবে, সুযোগ বাড়বে এবং কোটি কোটি মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে।’
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ জোরদার করে ভবিষ্যৎ উপযোগী বিদ্যুৎ গ্রিড ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে এডিবি। ‘প্যান-এশিয়া পাওয়ার গ্রিড উদ্যোগ’-এর আওতায় সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে উন্নয়নে অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। চার দিনব্যাপী সম্মেলনটি গতকাল শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত।
এডিবি জানায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা বাড়ানো হবে। ফলে সীমান্তপারে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে প্রায় ২০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ২২ হাজার সার্কিট-কিলোমিটার নতুন ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হবে। এতে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা উন্নত হবে, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ খাতে কার্বন নিঃসরণ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। সেই সঙ্গে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা।
এডিবির বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এডিবি জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে সরে এসে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের দিকে একটি নতুন ধারা তৈরি হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এডিবির প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাক্কা লেগেছে জ্বালানি খাতে। তবে সেখানেই তা থেমে থাকেনি। দ্রুতই জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্য ও সারের দামে এর প্রভাব পড়েছে। এ ধাক্কা অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি তুলে ধরে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এডিবি গত মার্চে উন্নয়নশীল সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।’
তিনি আরো জানান, স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের জন্য এডিবি তাদের ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে দ্রুত বাজেট সহায়তা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ও মধ্যমেয়াদি সহনশীলতা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।