মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নে চান্দেরচর খালের ওপর সেতু নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজটি নতুন করে চালু করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিবচর উপজেলার চান্দেরচর বাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। উমেদপুর, ভদ্রাসন ও কুতুবপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় রডে মরিচা ধরেছে। এতে কাজের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষক খেতের ফসল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চান্দেরচর বাজারের ব্যবসায়ী অমল দে জানান, সেতুটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হলেও ৫ আগস্ট ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সেতুটি নির্মাণে ভূমি জটিলতাও রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করলে জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনিয়া বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অন্য কোনো কারণ আমি আর দেখছি না। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সমাধান না হলে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি অধিগ্রহণের বিল দিয়ে দিলেই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। কারণ ঠিকাদারের লোকজন সেতু নির্মাণকাজ করতে গেলে স্থানীয়রা অধিগ্রহণের অর্থ না পাওয়ায় কাজে বাধা দেন। সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের আগে সেতুর কাজ শুরু করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। সেতুটি চালু হলে শিবচর উপজেলার উমেদপুর, ভদ্রাসন ও কুতুবপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। আমরা সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’