উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে
বিভিন্নজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ
নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ব্যাংকের চেয়ে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে
সিগারেট ব্যবসা ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন কেন্দ্রীয়
ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক
সম্পাদক শান্ত কুমার রায়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ
করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন নবীনগর থানার ওসি
সাইফুদ্দিন আনোয়ার।
জানা গেছে, শান্ত কুমার
রায় এলাকায় সিগারেট ও র্স্বণের ব্যবসা করতেন। এছাড়া চট্টগ্রামে তার বাবার কয়েকটি
স্বর্ণের দোকান রয়েছে বলে গুঞ্জন ছিল এলাকায়। বাবার ব্যবসায়ী পরিচয় কাজে লাগিয়ে সিগারেট ও স্বর্ণের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার কথা বলে
বিভিন্নজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন শান্ত।
বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীসহ
এলাকার অনেকে ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে শান্তকে দেন। গত কয়েক বছর অনেকের সঙ্গে
লেনদেন ঠিকমতো চালালেও শনিবার থেকে উধাও শান্ত।
এ ঘটনার পরই বেরিয়ে আসতে
থাকে শান্তর একের পর এক অর্থ আত্মসাতের তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, নবীনগরের সলিমগঞ্জ
এলাকার মো. হকের কাছ থেকে ৪০ লাখ, বড়িকান্দি
ইউনিয়নের বিকাশের দোকানদার শাহ জালালের কাছ থেকে ৫৩ লাখ, ধরাভাঙ্গা গ্রামের বাবলু
মিয়ারে কাছ থেকে ১১ লাখ ছাড়াও অন্তত ৪০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে পালিয়ে
গিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মো. হক জানান,
শান্ত ও তার বাবা ব্যবসার কথা বলে তার
কাছ থেকে প্রায়ই টাকা
নিতেন। সবশেষ তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে এখন উধাও তারা।
আরেক ভুক্তভোগী মো. সুজন
মিয়া বলেন, স্বর্ণ কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত। শনিবার
আমার টাকা দেয়ার কথা ছিল। ওইদিন থেকেই তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বন্ধ
রয়েছে তার ফোনও।
ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, আমার কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ৫৩ লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত। এভাবে আরো অনেকের কাছ থেকেই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছেন তিনি। আবার অনেকে কোনো ডকুমেন্ট ছাড়াই বিশ্বাস করে তাকে টাকা দিয়েছেন। শ্যামলের ধারণা, টাকাগুলো নিয়ে শান্ত ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা নির্মল
রায় ও তার ছেলে শান্ত রায়কে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নবীনগর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, ওই দুজনের বিরুদ্ধে মোট ৭টি অভিযোগ
পেয়েছেন তারা। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানালেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।