বাসের ট্রিপ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে বৈঠকে
কুষ্টিয়ার বাস শ্রমিকদের মারধরের জের ধরে কুষ্টিয়া থেকে ডাকা বাসমালিক-শ্রমিকদের ‘ধর্মঘট’ চলছে চতুর্থ দিনের মতো। আজ সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালেও কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুর ও খুলনার
উদ্দেশে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হবে কুষ্টিয়া জেলা
প্রশাসকের কার্যালয়ে। বৈঠকে সুরাহা না হলে কুষ্টিয়া থেকে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধের
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাসমালিক ও শ্রমিকরা।
এর আগে ৯ এপ্রিল কুষ্টিয়া বাসমালিক-শ্রমিকরা
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ
সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া থেকে যেসকল দাবিগুলো উঠেছে তা তিনি ঝিনাইদহের
জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সেখানকার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জানিয়েছেন।
সকালে জেলা প্রশাসক বণিক বার্তাকে জানান ঝিনাইদহ থেকে আসা জবাবের প্রেক্ষিতে আজ উভয় পক্ষকে নিয়ে তার কার্যালয়ে বৈঠক হবে। এ
বৈঠকে উভয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও দুই জেলার বাসমালিক ও শ্রমিকরা উপস্থিত
থাকবেন।
কুষ্টিয়া জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের
সভাপতি আখতারুজ্জামান জানান, সমস্যা মিটে যাওয়ার কথা ছিল রোববারই। সমস্যা না মিটলে
সোমবার সকাল থেকে কুষ্টিয়ার সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে যেহেতু
আজ একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে এবং বৈঠকে তারাও আসবে। এই সভায় কী সিদ্ধান্ত
হয় দেখা হবে। এর ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
গত শুক্রবার সকাল থেকে কুষ্টিয়া-ফরিদপুর
ও কুষ্টিয়া-খুলনা রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ আছে। এতে ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনাগামী যাত্রীদের
দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। খুলনা ও ফরিদপুর থেকে যাত্রীরা সরাসরি কুষ্টিয়া যেতে পারছেন না।
তাদেরকে ঝিনাইদহ গিয়ে সেখান থেকে ভিন্ন পন্থায় কুষ্টিয়া পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় অর্থ
দুটিই বেশি অপচয় হচ্ছে। তারপর রয়েছে বাড়তি ভোগান্তি। গরম ও রোজা বিষয়টিকে আরো জটিল
করে তুলেছে।
সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার মজমপুর বাস স্ট্যান্ড
ও চৌরহাস বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় অনেক যাত্রী ভোগান্তি মাথায় নিয়েই যাতায়াত করছেন।
আনোয়ারুল হক নামের এক যাত্রী জানান, তিনি
সেহরী খেয়ে ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়া রওনা হন। কুষ্টিয়ার চৌরহাস মোড়ে আসতে তার সময় সময়
লেগেছে তিন ঘণ্টা। অথচ এটি পঁয়তাল্লিশ মিনিটের একটি পথ। ঝিনাইদহ থেকে তিন ধাপে কুষ্টিয়া
পৌঁছেছেন তিনি। এ রুটে বাসবাড়া ৭০ টাকা। তিনধাপে ভেঙে আসতে তার খরচ হয়েছে ২১০ টাকা।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম জানান,
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। এজন্য উভয় পক্ষকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা দেখানোর
অনুরোধ জানান তিনি।
সমস্যা সৃষ্টি হয় ঝিনাইদহে। ঝিনাইদহ মোটরশ্রমিক
নেতারা বাসের নতুন ট্রিপ চেয়ে আসছিলেন কুষ্টিয়ার কাছে। এটা নিয়ে ৫ এপ্রিল ঝিনাইদহে
একটি বৈঠকে কুষ্টিয়ার বাসের স্টাফদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমন অবস্থায় পরিবহন
সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বাসশ্রমিক, মালিক গ্রুপ উভয় মিলে সিদ্ধান্ত
নিয়ে ৭ এপ্রিল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয়।