প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো মসজিদটি কেবল ইতিহাসের সাক্ষী নয়, বরং তৎকালীন স্থাপত্যশৈলী ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। স্থানীয়ভাবে এটি রাজবিবি মসজিদ, খঞ্জন দিঘি মসজিদ নামেও পরিচিত। প্রাচীন জান্নাতবাদ নগরের উত্তর প্রান্তে একটি বিশাল দিঘির পশ্চিম পাড়ে এর অবস্থান।
মসজিদটির কোনো সুনির্দিষ্ট শিলালিপি পাওয়া না গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী ও অলঙ্করণ বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন, এটি ইলিয়াস শাহী আমলের দ্বিতীয় পর্বে আনুমানিক ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটি বর্গাকৃতির নামাজ কক্ষ ও এর পূর্ব দিকে একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট বারান্দা নিয়ে গঠিত। মূল নামাজ কক্ষের ওপর রয়েছে বিশাল একটি গোলাকার গম্বুজ আর বারান্দার ওপর রয়েছে তিনটি ছোট গম্বুজ।
মসজিদের চারকোণে আটকোনা বুরুজ ও ভেতরে পাথরের কারুকাজ খচিত তিনটি মিহরাব তৎকালীন কারিগরদের নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে কেবলা দেয়ালের অভ্যন্তর ভাগ গ্রানাইট পাথরে আচ্ছাদিত, যা মসজিদটিকে অন্য অনেক স্থাপনা থেকে আলাদা করেছে। এর নির্মাণশৈলীর সঙ্গে তুরস্কের সেলজুক ও ওসমানীয় আমলের মসজিদের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
খনিয়াদিঘি মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর দেয়ালের টেরাকোটা বা পোড়ামাটির অলঙ্করণ। যদিও কালের বিবর্তনে অনেক কারুকাজ নষ্ট হয়ে গেছে, তবুও ছাঁচকৃত কার্নিশ ও খিলানবদ্ধ ক্ষুদ্র প্যানেলগুলো এখনো দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এ ধরনের অলঙ্করণ সুলতানি আমলের আরো কয়েকটি স্থাপনায় যেমন হজরত পান্ডুয়ার একলাখী মাজার, জান্নাতবাদের তাঁতিপাড়া মসজিদ ও গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদেও দেখা যায়।
পর্যটকরা এখানে এসে নামাজ আদায়সহ আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। এর পাশেই রয়েছে ছোট সোনা মসজিদ, দারাসবাড়ি মাদরাসা ও তোহাখানা কমপ্লেক্সের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও পানীয় জলের অভাব দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, ‘খনিয়াদিঘি মসজিদসহ এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ চলছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে খনিয়াদিঘি মসজিদটি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পারে।’