সিলেটে চামড়া সংগ্রহ করবে না কওমি মাদরাসা কাল থেকে ছুটির সিদ্ধান্ত

এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো।

বাজারে সিন্ডিকেট ও কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্তে আমরা অনড়। পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। আগামীকাল থেকে সব মাদরাসা ছুটি হয়ে যাবে।’

এদিকে কওমি মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করলে সংগ্রহ ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা না হলে কাঁচা চামড়া পচে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

জানা গেছে, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কওমি মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে চামড়া সংগ্রহ করে আসছে। সংগৃহীত চামড়া তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। সেখান থেকে তা চলে যায় ট্যানারিগুলোতে। তবে এবার সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসা পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শুধু সিলেটে তিন লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে।

কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই কাঁচা চামড়ার বাজারে স্থবিরতা বিরাজ করছে। মূলত দিন দিন চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় এ খাতে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সিন্ডিকেট এবং ট্যানারি শিল্পের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। চলতি বছর এ খাতে নতুন করে আরো এক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ বছর সারা দেশে ১৭ কোটি টাকার লবণ সরবরাহ করেছে সরকার। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার ও জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লবণ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ করেছেন সিলেটের কওমি মাদরাসার পরিচালকরা।

মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেন, ‘আমরা তো চামড়া সংগ্রহ করতে চাই। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা যথাযথ মূল্য ও মূল্যায়ন পাই না। চামড়া সংগ্রহ করে কার কাছে বিক্রি করব, সেটি তো আমাদের জানতে হবে। ব্যবসায়ীদের এ নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনবেন।’

আরও