খুলনায় সারের সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগ

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা সার দিতে পারছেন না। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অনেক খুচরা বিক্রেতা দোকান বন্ধ করে গাঢাকা দিয়েছেন।

খুলনার উপকূলীয় কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে সার সংকটের অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ না মেলায় ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা সার দিতে পারছেন না। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় অনেক খুচরা বিক্রেতা দোকান বন্ধ করে গাঢাকা দিয়েছেন।

আমাদি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক তৌহিদুল সানা জানান, ১০ বিঘা জমিতে ১০০ কেজি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন থাকলেও তিনি মাত্র ৪০ কেজি পেয়েছেন। ডিলার ও কৃষি অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান মেলেনি।

হাতিয়ারডাঙ্গা বাজারের খুচরা বিক্রেতা আশীষ রায় জানান, স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী দিনে তার প্রয়োজন ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার। কিন্তু তিনি বরাদ্দ পাচ্ছেন ২০-২৫ বস্তা। এতে তিনি কৃষকের চাপে পড়ছেন। বাধ্য হয়ে মাঝেমধ্যে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সংকট কাটাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিকল্প নেই।’

ওই এলাকার কৃষক মোজাম শেখ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে এলাকার দোকানে দোকানে ঘুরেছি। কিন্তু কারো কাছে সার পাইনি। পরে পাশের উপজেলার একটি দোকান থেকে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হয়েছে।’ মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানি এলাকার কৃষক নিরোদ মণ্ডল বলেন, ‘২০ বিঘা জমির সার জোগাড়ে উপায় না পেয়ে কয়েকজন মিলে একটি ট্রলার ভাড়া করে অন্য উপজেলা থেকে চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এতে এ মৌসুমে আমনের উৎপাদন খরচ বাড়বে।’

উপজেলা সার পরিবেশক সমিতির সভাপতি আবুল হাসান জানান, গত বছর অন্য জায়গা থেকে সার কিনে ঘাটতি মেটানো গেলেও এবার সে সুযোগ নেই। কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, ‘বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি থাকায় উপবরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, দাকোপ উপজেলায় ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। চালনা, তিলডাঙা, কামারখোলা ও বাজুয়া বাজারে সার সংকটের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বেশি দাম নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তিলডাঙার কৃষক রবীন্দ্রনাথ সরদার জানান, ১৮ বিঘা জমিতে আমন চাষ করলেও চাহিদা মতো সার না পাওয়ায় ধানের পাতা হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। কামারখোলা স্কুলশিক্ষক প্রশান্ত গোলদার অভিযোগ করেন, ডিলার ও সাব-ডিলাররা প্রকাশ্যে ‘সার নেই’ বললেও গোপনে বস্তাপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার জানান, সংকট ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত দাম নেয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ডিলারদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের চার জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১০ হেক্টর, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫১ হেক্টর বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সার সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছাতে শুরু করেছে। কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও