একসময় জেলার চর ও দ্বীপচর এলাকায় ব্যাপকভাবে কাউন চাষ হলেও বর্তমানে লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার চারটি উপজেলায় মোট ১৬৫টি চর ও দ্বীপচর রয়েছে। এসব এলাকায় আগে প্রচুর পরিমাণে কাউনের আবাদ হতো। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে এ ফসল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বর্তমানে কাউনের পরিবর্তে কৃষকরা ভুট্টা, মরিচ ও মিষ্টি কুমড়ার মতো লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। ফলে গত এক দশকে চরাঞ্চলে কাউনের আবাদ দৃশ্যমানভাবে কমে গেছে।
চলতি বছর জেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে কাউনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৬ হেক্টর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৩ হেক্টর, সাঘাটা উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, ফুলছড়ি উপজেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে কাউনের আবাদ হয়েছে।
একসময় কাউন দানাদার ফসল হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। এটি ‘কাউন ধান’ নামেও পরিচিত। এ ফসল দিয়ে তৈরি পিঠা, ক্ষীর ও পায়েস এখনো অনেক জনপ্রিয়।
ফুলছড়ি উপজেলার কৃষক রুবেল মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে আমরা কাউনের আবাদ করতাম। কিন্তু এতে খরচের টাকা ওঠে না। তাই এখন ভুট্টা চাষ করছি, এতে লাভ বেশি।’
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. রোস্তম আলী বণিক বার্তাকে বলেন, জেলার যমুনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর চরাঞ্চলে কাউনের চাষ হয়। তবে বর্তমানে উচ্চফলনশীল ও লাভজনক ফসলের কারণে কৃষকরা কাউন থেকে কিছুটা সরে আসছেন। আমরা তাদের বীজ সংরক্ষণ ও পুনরায় কাউন চাষে আগ্রহী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।